প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১৯:৩৮
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতালা ইউনিয়নের কান্তি ভিটা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে একজন বাংলাদেশী কিশোর নিহত এবং আরও দুইজন আহত হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে ধনতালা বিজিবি সীমান্তের মেইন পিলার ৩৯৩ এর পাশে।
নিহত কিশোরের নাম জয়ন্ত কুমার সিংহ (১৫)। তিনি ধনতালা ইউনিয়নের কান্তি ভিটা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সূত্রমতে, রাত গভীর হওয়ার পর জয়ন্ত এবং আরও দুইজন ব্যক্তি ভারতীয় সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। এসময় ভারতীয় ডিংগাপাড়া বিএসএফ বাহিনী তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়, যাতে জয়ন্ত কুমার সিংহ ভারতের অভ্যন্তরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তার সাথে থাকা দুই ব্যক্তি আহত হন এবং তাদের বর্তমানে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়ন্ত কুমার সিংহ সহ আরও কয়েকজন সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে গরু আনতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিএসএফ বাহিনীর কড়া নজরদারিতে তারা ধরা পড়ে এবং গুলিবিদ্ধ হন। আহত দুইজনের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল হলেও তারা মানসিকভাবে ভীষণ ভেঙে পড়েছেন।
বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "আমরা ঘটনাটি জানার সাথে সাথে আমাদের টিমকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। বিএসএফ বাহিনী কেন গুলি চালিয়েছে, সেটি তদন্তের জন্য বিএসএফ এবং বিজিবির মধ্যে আলোচনা চলছে। এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে যেন না ঘটে, সেই বিষয়ে আমাদের কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে।"
স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা দাবি করেছেন, সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশীদের ওপর বিএসএফের এমন নির্মম আক্রমণ বন্ধ করতে হবে। জয়ন্ত কুমারের বাবা-মা এবং আত্মীয়স্বজনেরা শোকাহত অবস্থায় রয়েছেন এবং তারা ন্যায়বিচার দাবি করছেন।
বিজিবির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, "আমরা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাথে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনাগুলি প্রতিরোধের জন্য সীমান্তে আরও কঠোর নজরদারি ও সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হবে।"
প্রতিনিয়ত সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে, যা সীমান্তের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। সীমান্তে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি মানবাধিকার রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক মহলকেও এ বিষয়ে আরও জোরালো ভূমিকা নিতে হবে।
এ ধরনের সহিংস ঘটনা বন্ধ করতে এবং সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে দুই দেশের সরকারের মধ্যে সহযোগিতা ও সমঝোতা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।