প্রকাশ: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ৪:৩
দেশের নতুন সরকার তার প্রথম মাসেই মূল্যস্ফীতি কমিয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সরকার জনগণের ক্রয়ক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য কমানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে এবং সরকারের প্রতি তাদের আস্থা বেড়েছে।
সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিগত মাসের তুলনায় চলতি মাসে মূল্যস্ফীতির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষ করে খাদ্য ও জ্বালানি খাতে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে, যা জনগণের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, নতুন সরকারের কার্যকরী নীতিমালা এবং তৎপরতার ফলেই এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এছাড়াও কৃষি খাতে উন্নয়ন, পণ্য সরবরাহে ব্যাঘাত রোধ, এবং বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এছাড়াও সরকার অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে কাজ করেছে। এর ফলে মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে, যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, "আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব করা। আমরা জানতাম, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই আমাদের প্রথম কাজই ছিল এই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা। আমরা আনন্দিত যে, আমরা এই লক্ষ্যে কিছুটা হলেও সফল হয়েছি।"
এদিকে, ব্যবসায়ীরা সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, মূল্যস্ফীতি কমার কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ব্যবসায়ীরা এখন আরও বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হচ্ছেন, কারণ তারা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে আশাবাদী।
তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অর্থনীতিকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে সরকারের জন্য আরও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তারা মনে করেন, নতুন সরকারকে আরও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে যাতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
প্রথম মাসেই এই সাফল্য অর্জন করায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তির সুবাতাস বইছে। নতুন সরকারের প্রতি আস্থা ও সমর্থন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা তাদের ভবিষ্যত কর্মকাণ্ডের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে, এই সাফল্যকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য সরকারকে সচেষ্ট থাকতে হবে এবং আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
সংক্ষেপে, নতুন সরকারের এই সাফল্য শুধু একটি সাময়িক অর্জন নয়, বরং এটি একটি সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর।