প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৪, ১৮:১৪
আর্সেনোকিসিস রোগীদের সচেতনতা সৃষ্টি এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় ১১.৫ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রকল্পের সকল বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য দুদকের প্রতি নোটিশ অব ডিমান্ড ফর জাস্টিস পাঠিয়েছেন সুপ্রীম কোর্ট অব বাংলাদেশ এর আইনজীবি ড. মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন (বাবু)।
অভিযোগে বলা হয়, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বাঁচাতে মরিয়া মহাপরিচালক” শিরোনামে ২৭ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল জি টিভিতে একটি সংবাদ প্রচারিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আর্সেনিক রোগীদের চিকিৎসায় অনুমোদনহীন ওষুধ বিতরনের নামে প্রকল্প পরিচালক মোঃ জহিরুল ইসলাম ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের যোগসাজসে ১১.৫ (সাড়ে এগারো) কোটি টাকা লোপাটের ঘটনা ঘটেছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পে।
শুধু তাই নয় পিপিআর লংঘন করে আসবাবপত্র ক্রয় এবং প্রকল্প এলাকা চাঁদপুর ও সাতক্ষীরায় ১০ টি স্যাটেলাইট ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা না করেই গায়েব করা হয়েছে পুরো টাকা। পরিকল্পনা কমিশনের তদন্তে উঠে এসেছে এসব তথ্য।
কিন্তু এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে দায়ী কর্মকর্তারা। উল্টো দোষী কর্মকর্তাদের বাঁচাতে মরিয়া অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু সালেহ মোস্তফা কামাল।
এছাড়া, “সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রকল্প: ভুয়া পেশাজীবি সাজিয়ে অর্থ আত্মসাৎ” শিরোনামে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় ১০ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে এক সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বংশগতভাবে আদি পেশাজীবি যেমন; কামার, কুমার, নাপিত, বাঁশ-বেত পণ্য তৈরীকারী; জুতা মেরামত ও প্রস্তুতকারী(মুচি) দের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন জেলায় ২০১৭ সালে শুরু হওয়া “প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন” শীর্ষক প্রকল্প ২০২০ সালে সমাপ্ত হওয়ার কথা থাকলেও মেয়াদ বাড়িয়ে তা ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। এবং এতে ব্যয় বেড়ে যায় প্রায় ৭১ (একাত্তর) কোটি টাকা। এ প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।
প্রতিবেদন মতে, শুধু ভুয়া নাম, ঠিকানা ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ নেওয়া ব্যক্তিদের আড়ালে ১ টি জেলায় আত্মসাৎ করা হয়েছে ১৫ লক্ষাধিক টাকা। তাছাড়া, প্রশিক্ষণ পাননি এমন ৩৫ জন ব্যক্তির আড়ালে আত্মসাৎ করা হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টাকা।
“৯০৭ কোটি টাকার প্রকল্প নিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কারসাজি” শিরোনামে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। এতে বলা হয়েছে গত বছরের জুনে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো বিদ্যমান ৬ টি আশ্রয়কেন্দ্রের কাজের ধরন প্রায় এক হলেও সেসব কাজ ছোট ছোট ৮১ টি প্যাকেজে ভাগ করা হয়েছে। কোনটি ১০ কোটি, কোনটি বিশ কোটি টাকার প্যাকেজ। সর্বোচ্চ একটি প্যাকেজ ধরা হয়েছে ৫৮ কোটি টাকা। ৭৪ টি প্যাকেজ অনুমোদকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে প্রকল্প পরিচালককে রাখা হয়েছে। বাকী ৭ টি প্যাকেজ অনুমোদনকারী হিসেবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে রাখা হয়েছে।
প্রতিবেদনের বরাতে দেখা যায়, জনবলের অভাবে ভবঘুরেদের সেবা দিতে না পারলেও ভবন নির্মানে ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। ছয়টি আশ্রয়কেন্দ্রের প্রকল্প অনুমোদন করাতে তদবির করছে তারা।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলে সংবাদ প্রচারিত ও প্রকাশিত হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
এ সকল বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য দুদকের প্রতি নোটিশ অব ডিমান্ড ফর জাস্টিস পাঠিয়েছেন সুপ্রীম কোর্ট অব বাংলাদেশ এর আইনজীবি ড. মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন (বাবু)।