প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৪, ৪:৩৪
দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে আগামী বুধবারের দিকে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পরে এটি আরো ঘনীভূত হতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়েও রূপ নিতে পারে। তবে এখনই তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। এ জন্য আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় হওয়ার মতো অনুকূল পরিস্থিতি রয়েছে সাগরে। তবে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় যে লঘুচাপ হলে তা ঘূর্ণিঝড় হবে কি না বা হলেও বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত করবে কি না। লঘুচাপটি যদি উপকূলের কাছাকাছি হয় তাহলে হয়তো নিম্নচাপ হয়েই এটি শেষ হয়ে যেতে পারে।
আর যদি গভীর বা মাঝ সাগরে হয় সে ক্ষেত্রে সময় বেশি পেয়ে এটি ঘূর্ণিঝড়েও রূপ নিতে পারে। দু-এক দিন পর এটি আরো পরিষ্কার বোঝা যাবে।
এদিকে ভারতের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) জানিয়েছে, ২২ মে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ তৈরি হতে পারে। এটি প্রাথমিকভাবে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। ২৪ মের দিকে লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে মধ্য বঙ্গোপসাগরে এসে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক পিএইচডি গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানান, লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপ হয়ে তা আরো শক্তিশালী হয়ে ২৫ মে পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের ওড়িশা রাজ্য ও বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে স্থলভাগে আঘাত করার সম্ভাবনা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ। তবে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে এটি সরাসরি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়েও স্থলভাগে আঘাত করতে পারে। এর প্রভাবে ২৪ থেকে ২৮ মে পর্যন্ত বাংলাদেশে বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সোমবার রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টিও হতে পারে কোথাও কোথাও। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সামান্য কমতে পারে রাতের তাপমাত্রা। মঙ্গলবার বৃষ্টিপাতের এলাকা ও পরিমাণ আরো কমতে পারে।