গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মিডিয়া উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু সোমবার (১৯ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ চিঠি পৌঁছে দেন।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী চিঠিতে জরুরিভাবে ১১টি কর্তব্য পূরণ করতে সরকারের প্রতি দাবি জানান। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- অক্সিজেন, ওষুধ, মেডিকেল যন্ত্রপাতি ও সামগ্রী থেকে বিশেষ SRO (Statutory Regulatory Order) এর মাধ্যমে সব ধরনের শুল্ক, অগ্রিম আয়কর, মূসক প্রভৃতি প্রত্যাহার করা।
আইসিইউ পরিচালনার জন্য জরুরিভিত্তিতে চিকিৎসক, নার্স, প্যারামেডিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। সব ওষুধের মূল্য এবং রোগ পরীক্ষার পদ্ধতিসমূহের চার্জ সরকার কর্তৃক নির্ধারণ করে দেওয়া।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে চিঠিতে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ট্রিপসের বাধ্যতামূলক (Compulsory) লাইসেন্সের মাধ্যমে ভ্যাকসিন উৎপাদন সুবিধা সৃষ্টির জন্য নোবেল লরিয়েট ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আপনার বিশেষ দূত করে ইউরোপে পাঠান।
চিঠিতে প্রস্তাব করা হয়, লকডাউন কার্যকর করার জন্য দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে সরাসরি আর্থিক প্রণোদনার পরিবর্তে বিনামূল্যে মাসিক রেশনে চাল, ডাল, আটা, আলু, তেল, চিনি, পেঁয়াজ, রসুন প্রভৃতি দিতে হবে।
চিঠিতে জাফরুল্লাহ চৌধুরী ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করার প্রস্তাব উল্লেখ করে বলেন, গত বছর দ্রুত সিনোভ্যাকের ট্রায়াল অনুমোদন না দিয়ে যে ভুল করা হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি কাম্য নয়।
চিঠিতে জাফরুল্লাহ চৌধুরী লিখেছেন, গণস্বাস্থ্য উদ্ভাবিত এন্টিবডি-এন্টিজেন অনুমোদন এক বছরে হয়নি। ড. বিজন কুমার শীলের ভিসা না হওয়ায় বাংলাদেশে ফিরতে পারছেন না। ছয় মাস আগে চার বিজ্ঞানীর তত্ত্বাবধানে রিয়েল টাইম পিসিআর (Real time PCR) ল্যাবরেটরি স্থাপিত হলেও ব্যবহার শুরু করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এখনও অনুমতি দেয়নি। ক্ষতি হচ্ছে দেশের, বিষয়টি আপনাকে পুনরায় অবগত করলাম।
চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে জাফরুল্লাহ চৌধুরী লিখেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে জাতির কঠিন সমস্যা থেকে মুক্তির সম্ভাবনা সমধিক। সবশেষে প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য কামনা করেন এবং নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।