চীনে করোনার প্রকোপ ধীরে ধীরে কমে আসলেও ইতালিতে হু হু করে বাড়ছে আক্রান্ত ও নিহতের সংখ্যা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে দেশটির সরকার। সবধরনের বার, রেস্টুরেন্ট, আইসক্রিম শপ, বস্ত্র বিতান, বিজুতারিয়া, সেলুনসহ সবধরনের পার্লার, বিউটি পার্লার, হেয়ার ড্রেসার শপ আগামী ২৫ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে।তবে সুপারমার্কেট, মিনিমার্কেট, ফার্মেসি, লাভান্ডেরিয়া/ব্যাংক/পোষ্ট অফিস, সংবাদপত্র বিক্রয় (এডিকোলা), তাবাক্কি, পেট্রোল পাম্প, আলিমেন্টারী, হোমডেলিভারি খাবার সার্ভিস খোলা রয়েছে।
করোনায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে ইতালির ছয় কোটি মানুষ। করোনাভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি ও মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী জোসেপ্পে কোন্তে লোকজনকে বাড়ির বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পুরো দেশজুড়েই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।সারা দেশকেই রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার বলছে, এই রেড জোনের আইন কেউ অমান্য করলে ২০৬ ইউরো জরিমানা অন্যথায় ৩ মাস থেকে ২১ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। লোকজনকে বাড়ির বাইরে বের না হওয়ার নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সফরের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
রাস্তাঘাট ফাঁকা, গণপরিবহনগুলো যাত্রী শূন্য। সারা ইতালি যেন এক ভূতুঁড়ে নগরী। ইতালির যেসব দর্শনীয় স্থানে প্রতিদিন হাজার হাজার লোকের সমাগম হত সেসব স্থান জনমানব শূন্য। রোমের কলোসিয়াম, মিলানের দমো, ভেনিসের পিয়াছা সান মারকো, পিজার হেলানো বিল্ডিংসহ দর্শনীয় স্থান গুলো যেন কালের সাক্ষি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।শনিবার বিকালে ইতালির বিভিন্ন শহরের মানুষ ঘর থেকে বারান্দায় দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত গেয়ে দেশের মঙ্গল কামনা করেছেন।ইতালির করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের সহযোগিতা করতে চীন থেকে একটি মেডিকেল টিম ইতিমধ্যেই রোমে এসে পৌঁছেছে। এক সাংবাদিক সম্মেলনে চীনের মেডিকেল টিম ইতালির জনগনকে আপ্রান সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।