
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৬

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে মিয়ানমার। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত আরও পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দেশটি ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এ তথ্য জানিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে মিয়ানমারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা এগিয়েছে। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
তুরস্কভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে এই ঘোষণা নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে প্রত্যাবাসনের সময়সূচি ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সম্প্রতি কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার কার্যালয়ের বাইরে অভিযান চালিয়ে শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ। পরে যাচাই-বাছাইয়ে তাদের বৈধ নিবন্ধনপত্র পাওয়া গেলে সবাইকে মুক্তি দেওয়া হয়।
বর্তমানে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থায় নিবন্ধিত এক লাখ ২৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশে কক্সবাজারসহ বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল জীবনযাপন করছেন।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের পর ব্যাপক নির্যাতনের মুখে লাখো রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। ওই ঘটনার জেরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ নিয়ে বিচারিক কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, শুধু প্রত্যাবাসনের ঘোষণা যথেষ্ট নয়। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার, স্বাধীন চলাচল এবং টেকসই পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা না থাকলে প্রত্যাবাসন দীর্ঘমেয়াদে সফল হবে না বলে তাদের আশঙ্কা।
বিশ্লেষকদের মতে, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকার পাশাপাশি মিয়ানমারের আন্তরিক উদ্যোগই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত হলেই কেবল এই দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটের কার্যকর সমাধান সম্ভব হতে পারে।