প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ১০:৪১

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের দাবি সামনে এসেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, জর্ডানের আকাবা বিমানবন্দরে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বিমানকে লক্ষ্য করে শক্তিশালী ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, হামলায় মার্কিন সি-১৭ পরিবহণ বিমান এবং পি-৮ কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল বিমান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এতে একাধিক সামরিক বিমান গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেছে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা জর্ডান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ‘অপারেশন নাসর-২’-এর ২১তম ধাপের অংশ হিসেবে এ হামলা পরিচালিত হয়েছে। তাদের ভাষ্য, জর্ডানের স্থানীয় জনগণের সরবরাহ করা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই লক্ষ্য নির্ধারণ করে এই অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।
একই বিবৃতিতে আইআরজিসি আরও দাবি করে, এর আগে জর্ডানের আজরাক এলাকায় মার্কিন ঘাঁটিতে চালানো রকেট হামলাও স্থানীয় সূত্রের তথ্যের সহায়তায় পরিচালিত হয়েছিল। ওই হামলায় বহু সামরিক স্থাপনা ধ্বংস এবং মার্কিন সেনাদের হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে বলে তাদের দাবি।

এদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, পশ্চিম ইরানের কেরমানশাহ প্রদেশের ইসলামাবাদ-ই-গার্ব এলাকার আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন শনাক্ত করে ভূপাতিত করা হয়েছে। ঘটনাটি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা টানা নবম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করাই তাদের অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।
উল্লেখ্য, গত জুন মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে সংঘাত কমিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পাল্টাপাল্টি হামলা ও সামরিক অভিযানের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।