প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ১১:৫

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার প্রেক্ষাপটে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
জানা গেছে, লন্ডন থেকে এশিয়ার একটি দেশের উদ্দেশে যাত্রাকালে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিটের সময় তাকে আটক করা হয়। পরে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘এনসিবি আবুধাবি’ বাংলাদেশ পুলিশের ‘এনসিবি ঢাকা’ শাখায় একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। ওই চিঠিতে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ নম্বর A-5174/4-2025 অনুযায়ী তাকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারকে ৩০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের পর বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিচারিক কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত দেশটির ফেডারেল আইন নং ৩৯/২০০৬-এর ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া পরিচালনার নির্দেশ দেন।

আমিরাতের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে লিখিত প্রত্যর্পণ আবেদন না পাঠালে প্রক্রিয়াটি জটিল হয়ে পড়তে পারে। এ কারণে বিষয়টি এখন বাংলাদেশ সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও কূটনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রত্যর্পণ আবেদনের সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয়, ছবি, জাতীয়তা ও আবাসনসংক্রান্ত তথ্য জমা দিতে হবে। পাশাপাশি অভিযোগের আইনি ভিত্তি, সংশ্লিষ্ট ধারাসমূহ, সম্ভাব্য শাস্তি এবং তদন্ত-সংক্রান্ত নথিও সংযুক্ত করতে হবে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলার ঘটনার বিবরণ এবং প্রয়োজনে আদালতের রায় ও সাজা কার্যকরের কপিও আরবি ভাষায় অনুবাদ করে যথাযথ স্বাক্ষর ও সিলমোহরসহ জমা দেওয়ার শর্ত আরোপ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।