মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরান-এর কাছে ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে পেন্টাগন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্রের বরাত দিয়ে ‘ইউএসএ টুডে’ জানিয়েছে, এই প্রস্তাবটি পাকিস্তান-এর মাধ্যমে ইরানের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। যদিও প্রস্তাবের বিস্তারিত শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে—ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও পারমাণবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে শান্তি আলোচনার খবরের মধ্যেই পেন্টাগন জানিয়েছে, মার্কিন সেনাবাহিনীর অভিজাত ‘৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন’ থেকে প্রায় ১০০০ থেকে ৩০০০ প্যারাট্রুপার মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে। ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে এসব সেনাকে দ্রুত মোতায়েনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সঙ্গে ‘খুবই ভালো ও ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে এবং একটি চূড়ান্ত সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইরান চুক্তির জন্য আগ্রহী এবং তেল-গ্যাস সংক্রান্ত একটি বড় ‘উপহার’ দিয়েছে। তবে ইরান সরকার এসব দাবি অস্বীকার করে একে ‘ভুয়া খবর’ বলেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হয় ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র মাধ্যমে। এতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। পাল্টা হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেয়, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।