প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:২৫

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে এমন শর্তে কয়েক সপ্তাহব্যাপী টানা অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা, যারা নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক।
সূত্ররা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য এই অভিযান আগের এককালীন হামলার তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত হতে পারে। এতে কেবল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোই নয়, দেশের রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত সামরিক জোট তৈরির প্রেক্ষিতে এই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। গত সপ্তাহে ওমানে দুই দেশের কূটনীতিকরা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছিলেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) পেন্টাগন জানিয়েছে, আরও একটি বিমানবাহী রণতরী অঞ্চলটিতে মোতায়েন করা হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে হাজারো সেনা, যুদ্ধবিমান এবং গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর ক্যারোলিনায় সেনাদের উদ্দেশে বলেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন। তিনি বলেন, কখনও কখনও ভয় দেখাতেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার উপায়। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি উল্লেখ করেন, ইরান প্রশ্নে প্রেসিডেন্টের কাছে সব বিকল্পই খোলা রয়েছে।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র দুটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছিল এবং ‘মিডনাইট হ্যামার’ অভিযানে স্টেলথ বোমারু বিমান সরাসরি হামলা চালিয়েছিল। জবাবে ইরান কাতারে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে সীমিত পাল্টা হামলা চালায়।
বর্তমান পরিকল্পনা আগের চেয়ে অনেক জটিল। বিশ্লেষকরা বলেন, ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের কারণে মার্কিন বাহিনীর ওপর ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাল্টাপাল্টি হামলা দীর্ঘায়িত হলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে দিতে পারে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনে সফরকালে বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলে তা অবশ্যই ইসরায়েলের নিরাপত্তা-স্বার্থ রক্ষা করবে। অন্যদিকে, ইরান সীমিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত, কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে আলোচনার অংশ করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।