প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১৬:৪১
ইয়েমেনের রাজধানী সানায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় হুতি বিদ্রোহী সরকারের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাউই নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দখলদার বাহিনীর পরিচালিত এ হামলায় আরও কয়েকজন কর্মকর্তার প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। ইয়েমেনি সংবাদমাধ্যম আল-জুমহুরিয়া জানিয়েছে, সানার একটি অ্যাপার্টমেন্ট লক্ষ্য করে বোমা বর্ষণ করা হলে সেখানেই প্রাণ হারান প্রধানমন্ত্রী।
অন্য একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এডেন আল-ঘাদ নিশ্চিত করেছে, প্রধানমন্ত্রী আল-রাহাউই ছাড়াও তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সঙ্গী একই হামলায় নিহত হন। তবে নিহতের সংখ্যা নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ইসরায়েলের হিব্রু সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল হুতি সরকারের উচ্চপদস্থ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব।
প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ অন্তত দশজন শীর্ষ কর্মকর্তার ওপরও হামলা হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল। তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর ওপর আলাদা করে নির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়। এক সূত্র জানায়, ওই সময় হুতি নেতারা সংগঠনের প্রধান আব্দুল মালেক আল-হুতির ভাষণ শুনতে জড়ো হয়েছিলেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক সূত্র জানিয়েছে, হামলাটি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে। স্থানটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় থাকলেও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান সেটি অতিক্রম করে হামলা চালাতে সক্ষম হয়। তবে ঠিক কতজন হতাহত হয়েছেন, তা নিশ্চিত করা যায়নি।
২০১৫ সালে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আব্দ-রাব্বু মনসু হাদি সৌদি আরবে পালিয়ে যান এবং হুতিদের সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করেন। এর পর থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হামলা চালিয়েও হুতিদের সরাতে পারেনি।
বর্তমানে রাজধানীসহ ইয়েমেনের বেশ কিছু এলাকা হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাউই ছিলেন তাদের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তার মৃত্যু হুতিদের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে হুতিরা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়ে দখলদার বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালাচ্ছিল। এরই মধ্যে ইসরায়েল তাদের শীর্ষ নেতৃত্বকে টার্গেট করল।
হামলার পর আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। হুতি বাহিনীর প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।