প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:৪৪

দেশে দিন দিন বাড়ছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও, ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
এই প্রেক্ষাপটে সোমবার থেকে সারা দেশে শুরু হচ্ছে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি। স্বাস্থ্য বিভাগ আশা করছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
এর আগে গত ৫ এপ্রিল দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়। পরে ১২ এপ্রিল রাজধানী ঢাকায়ও এই কর্মসূচি চালু করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী ব্যাপক পরিসরে এই টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তিনি আরও বলেন, টিকার কোনো ঘাটতি নেই এবং এ বিষয়ে গুজবে কান না দিতে জনগণকে আহ্বান জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের। এছাড়া সন্দেহজনকভাবে আরও ১৮১ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৪৪৩ জন এবং সন্দেহজনকভাবে আক্রান্তের সংখ্যা ২৩ হাজার ৬০৬ জনে পৌঁছেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব শিশুর জ্বর রয়েছে বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের এই সময় টিকা না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সুস্থ হওয়ার পরই তাদের টিকা দেওয়া উচিত বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।

এছাড়া যারা প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছে, তাদের ক্ষেত্রে চার সপ্তাহ পূর্ণ না হলে দ্বিতীয় ডোজ না নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে টিকার কার্যকারিতা বজায় থাকে।