প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১১:১৯
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নেয়া শুরু করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বছরের শুরু থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ৩০ হাজার ৫০০ রোগীর মধ্যে ৬৩ শতাংশই ঢাকার বাইরের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হটস্পট চিহ্নিত না করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৯ হাজার ৯৬৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চট্টগ্রামে ৪ হাজার ৫৪৮, রাজশাহীতে দুই হাজার ২৩০, খুলনায় ১ হাজার ৪৯ এবং ময়মনসিংহে ৫৩৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়াও সিলেট ও রংপুরেও ডেঙ্গুর প্রভাব দেখা গেছে।
এ বছর ১১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে বরিশাল ও চট্টগ্রামে ১৮ জন করে, রাজশাহীতে ৬ জন, খুলনায় ৫ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটিতেই মারা গেছেন ৫৭ জন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ পুরো ঢাকায় মৃত রোগীর সংখ্যা ৭০।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আবু জামিল ফয়সাল জানিয়েছেন, রাজধানীতে মুমূর্ষু রোগী আসায় ঢাকার মৃত্যুর হার বেশি দেখা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ঢাকার বাইরের আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে পুরুষের হার ৫৯ শতাংশ এবং নারীর সংখ্যা ৪১ শতাংশ। মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মৃতের মধ্যে পুরুষ ৫৭ শতাংশ এবং নারী ৪৩ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা হটস্পট চিহ্নিত করে স্থানীয়ভাবে vector control, অ্যালা ফগিং এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দিচ্ছেন। তারা মনে করেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ ব্যতীত প্রতিটি বর্ষায় এ সমস্যা আরও গুরুতর রূপ নেবে।
পরিবার ও স্থানীয় কমিউনিটিরও রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সঠিক স্বাস্থ্যবিধি, পানির জমে থাকা এড়ানো এবং ডেঙ্গু লক্ষণ শনাক্তের ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
সরকারি উদ্যোগ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে চলা না হলে আগামী সপ্তাহগুলোতে হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও মৃত্যু হার আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই স্থানীয় প্রশাসন ও জনসাধারণের সমন্বিত প্রচেষ্টা একান্ত প্রয়োজন।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে শুধু ঢাকা নয়, দেশের অন্যান্য জেলা ও বিভাগেও রোগের সংক্রমণ অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে।