প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১৭:৫৮
দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ আবারও বেড়েছে। মৃত্যুর পাশাপাশি আক্রান্তের সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এবং হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৮ জন এবং নতুন করে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ৫৮৬ জন রোগী।
গত সাত দিনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৩ আগস্টে ৪ জনের মৃত্যু এবং ২৪৭ জনের ভর্তি, ২৪ আগস্টে ১ জনের মৃত্যু এবং ৪৩০ জনের ভর্তি, ২৫ আগস্টে ৩ জনের মৃত্যু এবং ৪১২ জনের ভর্তি রেকর্ড করা হয়েছে। এরপর ২৬, ২৭, ২৮ এবং ২৯ আগস্টে কোনো মৃত্যু না হলেও প্রতিদিন কয়েকশো রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩০ হাজার ৫৪১ জন। এর মধ্যে ২৮ হাজার ৯৯৬ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। তবে এ সময়ে মারা গেছেন মোট ১১৮ জন। শুধুমাত্র আগস্ট মাসেই মৃত্যু হয়েছে ৩৫ জনের।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু এখন আর মৌসুমি নয়, সারা বছরই এর ঝুঁকি বিরাজ করছে। বৃষ্টি শুরু হলে রোগের প্রকোপ আরও বেড়ে যায়। অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, সিটি করপোরেশনকে সঠিক সময়ে কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে এবং এলাকাভিত্তিক প্রচারণা চালাতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে।
কীটতত্ত্ববিদ ড. মনজুর চৌধুরী বলেন, মশানিধনে শুধু জেল-জরিমানা এবং জনসচেতনতা যথেষ্ট নয়। সঠিকভাবে জরিপ পরিচালনা করে প্রশিক্ষিত জনবল দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
সচেতনতার পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষজ্ঞরা গুরুত্বারোপ করেছেন। বাড়ি, অফিস এবং আশপাশের পরিবেশে পানি জমতে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
সরকারি সংস্থাগুলোও বলছে, স্থানীয় প্রশাসন ও জনসাধারণের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। দ্রুত প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ না নিলে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।