
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৫২

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক ছাত্রী বান্ধবীকে মেসে ডেকে এনে ধর্ষণ করে।এবং বন্ধুদেরকে দিয়ে ভিডিও ধারণ করার ঘটনার সাথে জড়িত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে মতিহার থানা পুলিশ।এর মধ্যে ধর্ষক রাবি অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মাহফুজুর সারদ (২২)। সে রাবি শাখা ছাত্রলীগ কর্মী। এ ঘটনায় সোমবার ধর্ষক মাহফুজুর সারদকে দুই দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে বলে জানান মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ।
মামলার বরাত দিয়ে মতিহার থানার (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ জানান, গত ২৪ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮ টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র মাহফুজুর সারদ (২২) তার রাবির এক ছাত্রী বান্ধবীকে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে কাজলা সাঁকপাড়া এলকায় তার মেসে এনে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। এবং পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার বন্ধু নগরীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যায়ের আইন বিভাগের ছাত্র প্লাবন সরকার, রাফসান, জয়, জীবন এবং বিশালকে দিয়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে। ধর্ষণের পরে ওই ছাত্রীর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে তারা। তাদের দাবিকৃত টাকা না দিলে ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়া হবে বলেও হুমকি দিয়ে গভীর রাতে ওই ছাত্রীকে ছেড়ে দেয় তারা। ধর্ষণের শিকার রাবি ছাত্রী বিষয়টি তার পিতা ও মাতাকে জানান।
গত ২৭ জানুয়ারি দুপুরে ধর্ষণের শিকার রাবির ওই ছাত্রীর বাবা ও মাকে নিয়ে মতিহার থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। মামলা দায়ের করার পরেই মতিহার থানা পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে ধর্ষক রাবির অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র মাহবুবুর রহমানের ছেলে মাফুজুর রহমানকে (২১) ও তার দুই বন্ধু প্লাবন তালুকদার (২১) এবং রাজশাহী বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র রাফসানকে (২২) গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পরে তাদের কাছে থেকে ধর্ষণের ভিডিওসহ মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে, গত রবিবার রাবি ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনার সাথে জড়িত ধর্ষক মাফুজুর রহমানের দুই বন্ধু মতিহার কাজলা এলাকার জীবন (২৫) ও জয়কে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম মাসুদ পারভেজ। এর মধ্যে বিশাল নামের একজন পলাতক আসামীকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এঘটনায় ভাড়া দেয়া বাড়ির মালিক হাসান জানান, তিন মাস আগে ওই ছাত্রদের বাড়ি ভাড়া দিয়েছিলাম। ভাড়া দেয়ার এক মাস পরে তাদেরকে সুবিধাজনক আচরণ মনে না হলে তাদেরকে ভাড়া নেয়া রুমটি ছেড়ে দিতে বলেছিলাম। তারা অনুরোধ করে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত থেকে বাড়ি ছেড়ে দিতে চায়। এর মধ্যে এমন অপ্রীতিকর ঘটনার পরে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করার পরে বিষয়টি জানতে পারি। রাবির ছাত্র ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচুর অর্থের বিনিময় ছাত্র-ছাত্রীরা পড়ালেখা করে। কিন্তুু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদাসিনতার কারণে এমন ঘটনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ইনিউজ ৭১/টি.টি. রাকিব