
প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০১৯, ০:৩৭

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৪১তম দিবস উদযাপিত হয়েছে। শুক্রবার (২২ নভেম্বর) নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, হল, বিভাগ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও ছাত্র সংগঠন সহ সকল পর্যায়ের শিক্ষানুরাগীগণ।
সরেজমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটোক, প্রশাসন ভবন, হলগুলো সহ বিভিন্ন স্থাপনা ও ভবনগুলো সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। সেখানে শোভা পাচ্ছে রংবেরঙের আলোকসজ্জা। একই সাথে শিক্ষার্থীদের মাঝেও বিরাজ করেছে আনন্দের জোয়ার।

বাংলাদেশের সংবিধানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল ধর্ম ও বর্ণের দেশী ও বিদেশী ছাত্র-শিক্ষকের সমন্বয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ধর্মতত্ব, কলা ও মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান, আইন, ব্যবসায় প্রশাসন, বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, জীববিজ্ঞান, অনুষদীয় বিষয়ের পাশাপাশি দেশে শুধুমাত্র এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতেই ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামী আইনের উপর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী প্রদান করা হয়। বর্তমানে এ ৮ টি অনুষদের অধীনে ৩৪ টি বিভাগ চালু রয়েছে। যেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৬ হাজার এবং শিক্ষক রয়েছেন প্রায় সাড়ে চার শতাধিক। ইন্সটিটিউট রয়েছে একটি। ছাত্রদের জন্য ৫ টি আবাসিক হল এবং ছাত্রীদের জন্য ৩ টি আবাসিক হল। এ ছাড়াও চলমান মেগা প্রকল্পের বাজেটের আওতায় বহুতল বিশিষ্ট ছাত্রদের জন্য ২টি এবং ছাত্রীদের জন্য ২টি আবাসিক হল নির্মাণকাজ শুরু হতে যাচ্ছে। নতুন এ সব হলগুলোতে আবাসনের সুযোগ সৃষ্টির হবে ১ হাজার জন শিক্ষার্থী। বাংলাদেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম ৫ বছর মেয়াদী অর্গ্রানোগ্রাম অনুমোদন পায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। অর্গানোগ্রামটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন হলে ২০২১ সালের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগ হবে ৫৯টি, শিক্ষক সংখ্যা হবে ৯৯০ জন, কর্মকর্তা-কর্মচারী হবে ২ হাজার ৮৩ জন, শিক্ষার্থী হবে ২৫ হাজার ১১১ জন, অনুষদ হবে ৮টি এবং ইনস্টিটিউট হবে ৩টি। যেখানে প্রতি ২৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক নিযুক্ত হবে। ইতোমধ্যে অনুষদ ৮ টি করা হয়েছে। বর্তমানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএ, বিটিআইএস, বিবিএ, বিএসএস, এলএলবি, বিএসসি, এমএ, এমটিআইএস, এমবিএ, এমএসএস, এলএলএম, এমএসসি ডিগ্রী ছাড়াও এমফিল এবং পিএইচডি ডিগ্রী প্রদান করা হয়। দীর্ঘ এ ৪০ বছরের পথচলায় সমাবর্তন হয়েছে ৪ বার। প্রথম সমাবর্তন ১৯৯৩ সালের ২০ এপ্রিল, দ্বিতীয় সমাবর্তন ১৯৯৯ সালের ৫ নভেম্বর, তৃতীয় সমাবর্তন ২০০২ সালের ২৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় এবং সর্বশেষ চতুর্থ সমাবর্তন দীর্ঘ ১৬ বছর পর ২০১৮ সালের ৭ই জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ এই সমাবর্তনে প্রায় ১০ হাজার স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সনদ প্রদান করা হয়।
ইনিউজ ৭১/টি.টি. রাকিব