
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২১, ২:২২

কুমিল্লার দেবীদ্বারে ধর্ষণচেষ্টার মামলা প্রত্যাহার না করায় প্রকাশ্যে এক নারীকে লাঠিপেটার ঘটনায় জড়িত তিনজনকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। অপরদিকে পুলিশের অভিযানে আরো একজন সহ এ পর্যন্ত আটক হয়েছে ৪জন। শুক্রবার (২৬ আগস্ট) ভোর থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের দেবীদ্বার উপজেলা থেকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লা ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন।
র্যাব'র হাতে আটককৃত আসামিরা হলেন দেবীদ্বার উপজেলার কুরছাপ গ্রামের মৃত আলী হোসেন মুন্সীর ছেলে নুরুল ইসলাম (৬৮), মোস্তফা কামাল (৬১) ও একই গ্রামের মোঃ কাউছার'র স্ত্রী মোসা: নারগিছ (৩০) । এদিকে একই মামলার আরেক আসামী কুলসুমকে আটক করেছে দেবীদ্বার থানা পুলিশ।বিষয়টি নিশ্চিত করে দেবীদ্বার থানা অফিসার ইনচার্জ (সার্বিক) মোঃ আরিফুর রহমান বলেন, র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে এ পর্যন্ত মামলার ৪ আসামীকে আটক করা হয়েছে, বাকিদের আটক করার চেষ্টা চলছে। পলাতক রয়েছে মামলার প্রধান আসামী মোঃ কাউছার আহম্মেদ এবং মোঃ হাসান এবং পুত্রবধু আনিকা ।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩ টায় অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, দেবীদ্বারে এক নারীকে লাঠিপেটার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে তা আমাদের নজরে আসে । মামলা দায়েরের পর থেকে তারা কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন স্থানে পলাতক ছিল । অভিযান পরিচালনা করে হত্যা চেষ্টা মামলার পলাতক তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া দেবীদ্বার থানা পুলিশের অভিযানে আরেক আসামীকে আটক করা হয়েছে।

মামলার প্রধান আসামী মোঃ কাউছার আহম্মেদ বিদেশ পালিয়ে গেছেন কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব বলেন, প্রধান আসামী কাউছার বিদেশ চলে গিয়েছে এ ধরণের তথ্য আমরা পেয়েছি। তবে তা এখনো নিশ্চিত নয়, আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আশা করি অতিদ্রুত এই মামলার বাকি আসামীদেরও গ্রেফতার করতে সক্ষম হব।
উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগে নির্যাতিত নারীর স্বামী জামাল উদ্দিন তার মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কুমিল্লার আদালতে হাসান নামের একজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। অভিযুক্ত হাসান মেয়ের আপন চাচাতো ভাই। মামলার পর থেকে পারিবারিক দ্বন্দ্ব আরও বাড়তে থাকে।
গত ২০ আগস্ট শুক্রবার দুপুরে মোঃ হাসানের বড় ভাই কাউছার আহম্মেদসহ অন্য আসামিরা ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর মাকে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় প্রকাশ্যে লাঠিপেটা করেন। এ সময় কাউছারকে স্থানীয় কয়েকজন থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এ ঘটনার ধারণ করা ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৬আগস্ট) রাতে দেবীদ্বার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী নারীর স্বামী মোঃ জামাল হোসেন। এই মামলায় এখন পর্যন্ত ৪ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।