মাদ্রাসা এবং রোহিঙ্গাদের নামে আসা বিদেশি অনুদানের টাকা রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করতেন হেফাজত নেতারা।
রোববার (৩০ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ এ তথ্য জানায়।
গত ২৬ শে মার্চ থেকে তিন দিন ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি জেলায় তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলাম। এসব ঘটনায় ১৫১টি মামলা হয়েছে।
এজাহারভুক্ত আসামির সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি। অজ্ঞাতনামা আসামি ৮০ হাজার। এরইমধ্যে সংগঠনটির অর্ধশতাধিক শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হেফাজতের মামলাগুলো তদন্ত করছে সিআইডি, পিবিআই, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা এবং থানা পুলিশ।
তদন্তের এ পর্যায়ে এসে গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, মাদ্রাসা এবং রোহিঙ্গাদের নামে আসা বিদেশি অনুদানের টাকা আত্নসাৎ করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন হেফাজতের অনেক নেতা।
ডিএমপি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, হেফাজত নেতারা তাদের ইচ্ছে মতো এই টাকাগুলো ব্যবহার করে। এই টাকাগুলো তারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করেছে। মাদ্রাসা ও রোহিঙ্গাদের নামে আসা টাকার পাশাপাশি আরও বিপুল পরিমাণ টাকা তারা আত্মসাৎ করেছে।
এসব টাকা তারা নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নিত। আর এসবের মাধ্যমেই তারা বাড়ি গাড়ি করেছে।
তড়িঘড়ি নয়, আসামিদের জবানবন্দি, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দ্রুত অভিযোগপত্র দেয়ার কথা জানায় ডিবি।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, যাচাই-বাছাই, ভিডিও ফুটেজ, স্বীকারোক্তি ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত এগুলো সংগ্রহ করতে গিয়ে একটু দেরি হচ্ছে। আরও কিছুদিন লাগবে। তারপর দ্রুতই এ মামলাটি আমরা নিষ্পত্তি করব।
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলছেন, সহিংসতাকারীদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, যেভাবে তারা একটা অরাজকতা সৃষ্টি করেছে, যেভাবে কোটি কোটি টাকার সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট করেছে- এমন তাণ্ডবের পর তাদের ছাড় দেওয়ার তো সুযোগ নেই।
২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের তাণ্ডবের পুরানো এবং নতুন মামলা মিলে মোট ২২১টি মামলার তদন্ত চলছে। মামলার চাপে এবং গ্রেপ্তার অভিযানের কারণে কোণঠাসা সংগঠনটি।