
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২১, ১৯:৪৫

মাহমুদুল্লাহ এক ক্রিকেট যোদ্ধার নাম , বহু অবদান রেখেছেন তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেটে । দীর্ঘ ১৯ মাস ছিলেন টেস্ট ক্রিকেটের বাহিরে । অনেকটা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অবহেলার কারণেই জমে থাকা অভিমানে, অবসরে গেলেন মাহমুদুল্লাহ । আর তার ভাবনার খোরাকগুলোও তাকে দিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। আজ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছেন । গতকাল তার কথা পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্তাদের কানে।
শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন তো সংবাদমাধ্যমকে বলেই দিয়েছেন, ‘আমাকে অফিসিয়ালি কেউ কিছু বলেননি। তবে একজন ফোন করে জানিয়েছে, এই টেস্টের পর আর সে (মাহমুদুল্লাহ) টেস্ট খেলতে চায় না। ড্রেসিংরুমে নাকি সবাইকে সে এটা বলেছে। কিন্তু আমার কাছে এটা খুবই অস্বাভাবিক লেগেছে। খেলা তো এখনো শেষ হয়নি!’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সফরের একমাত্র টেস্ট শেষ না হতেই মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের এমন বক্তব্যে নারাজ সবাই। যেমনটা জানালেন বিসিবি’র মিডিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস। তিনি বলেন, ‘এখন টেস্ট চলছে। আমরা সংবাদমাধ্যমে শুনেছি মাহমুদুল্লাহ নাকি টেস্ট খেলতে চান না। এটি তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আর আমি মনে করি আমাদের ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এমনটা কোনো কিছু বলা উচিত হবে না।’
রিয়াদ হঠাৎ কেন এমন বললেন তা নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রিকেটার বলেন, ‘তিনি (মাহমুদুল্লাহ) কিন্তু জানেন নির্বাচকরা তাকে বিপদে পড়ে স্কোয়াডে ডেকেছেন। যখন জানা গেল তামিম ইকবাল ইনজুরির দোহাই দিয়ে টেস্ট খেলবেন না। মুশফিকের ইনজুরি আছে, তাই টেস্ট দলের ঝুঁকি কমাতেই অভিজ্ঞ রিয়াদকে দলে টানা।

এমনকি একাদশে থাকা নিয়েও ছিল দারুণ সংশয়। ম্যাচের আগের দিন অধিনায়ক মুমিনুলও ছিলেন দ্বিধায়। তামিম খেললেও হয়তো তার জায়গা পাওয়াও হতো না। এসব সবকিছু ছিল রিয়াদের জন্য বার্তা। তিনি ধরেই নিয়েছেন হয়তো আবারো তিনি হতে পারেন অবহেলার শিকার। তাই অভিমান থেকেই ম্যাচের তৃতীয় দিন ড্রেসিং রুমে সতীর্থদের জানিয়ে দিলেন আর টেস্ট খেলবেন না! মূলত তার অভিমানটা নির্বাচকদের অবিবেচকের মতো আচরণের উপর, কারণ বার বার বলতে শোনা গেছে তিনি টেস্টে চলেন না।’
অন্যদিকে নাম প্রকাশে এক নির্বাচক মাহমুদুল্লাহর এমন কাণ্ডে দারুণ আহত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘কাউকে নেয়া বা না নেয়ার কাজটা তো আমাদের হাতে। কিন্তু বলতে হয় যে, তা আমরা এককভাবে এটা নিয়ন্ত্রণ করি না। আমাদের কোচ, অধিনায়কের পরামর্শ শুনতে হয়। এ ছাড়াও বোর্ডেরও মতামত থাকে। আর শেষ পর্যন্ত কি হয় সব দোষ নির্বাচকদের।
আমরা তো তাকে ফিরিয়েছি। তার অভিজ্ঞতার মূল্যায়নও করেছি। এখন সে খেলার মাঝে এমনটা কেন করলো আমরা বুঝতে পারছি না। স্বাভাবিকভাবেই এখন আমাদের দোষ দেয়া হবে!’ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের এই অবসর নিয়ে নাটকের অবসান হবে হারারে টেস্ট শেষ হলেই। এখন দেখার বিষয় তিনি কি বিসিবি’র অনুরোধে টেস্ট দলে থাকেন নাকি একেবারেই সরে দাঁড়াবেন