
প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০:৪৯
কুয়াকাটার ঐতিহ্যবাহী কুয়া, শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার, কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান, ঝাউ বন, লেম্বুর চর, চর গঙ্গামতি, লাল কাঁকড়ার দ্বীপ, ফাতরার বন, এশিয়ার সর্ববৃহৎ সীমা বৌদ্ধ বিহার ও রাখাইন পল্লীসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে কমতি নেই পর্যটকের। এছাড়া দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার সৈকত এখন পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত। বছরের শেষ সূর্যদয়কে বিদায় আর নতুন সূর্যকে বরন করতে দেশী-বিদেশী হাজারো পর্যটকদের মিলন মেলা বসেছে কুয়াকাটায়।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শীতের আকাশে সূর্যের লুকোচুরি খেলা। বইছে হিমেল হাওয়া। তীব্র শীতে সৈকতের বালিয়ারীতে প্রিয়জনদের সাথে অবিরাম ছুটোছুটি আর সমুদ্রের গর্জন যেন পর্যটকদের মুগ্ধ করে তুলেছে। নানা বয়সী পর্যটকের আগমনে রাখাইন মার্কেট, ঝিনুকের দোকান, খাবারঘর, চটপটির দোকানসহ পর্যটন নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফিরে পেয়েছে প্রানচা ল্যতা। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসা ভ্রমণপিপাসু পর্যটকের উন্মাদনায় সৈকত জুড়ে বিরাজ করছে আনন্দময় পরিবেশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শীতের শুরুতে পরিবার পরিজন কিংবা কেউ পছন্দের মানুষটিকে নিয়ে কুয়াকাটার নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে এসেছেন। গত দুই দিন ধরে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়ছে। তাদের হাতে থাকা স্মার্ট ফোনের সেলফি ও ভিডিও ক্লিপস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এসব পর্যটকদের নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তায় কাজ করছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সৈকতে দাড়িয়ে কথা হয় খুলনা থেকে আসা আবদুর রহমান নামের এক পর্যটকের সাথে। তিনি বলেন, ইংরেজি নববর্ষকে বরন করতে পরিবার পরিজন নিয়ে ছুটে এসছেন কুয়াকাটায়। সমুদ্র দেখা ও তার উথাল পাতাল ঢেউয়ের গর্জনসহ দর্শনীয় স্থান গুলো অসাধারণ লেগেছে।
কুয়াকাটা হোটেল মোটেল মালিক কল্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মিলন ভূইয়া বলেন, গত দু’দিন পর্যটকের সাংখ্যা কম ছিল। থার্টি ফাস্ট নাইট উপলক্ষে সোমবার সকাল থেকে পর্যটকদের চাপ লক্ষ্য করা গেছে। আমাদের হোটেল মোটেলগুলোতে বুকিং রয়েছে।

কুয়াকাটা ট্যুরিষ্ট পুলিশ জোনের সিনিয়র এএসপি জহিরুল ইসলাম বলেন, সৈকতে পর্যটকদের চলাফেরা নির্বিঘ্ন করতে এবং যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুরো সৈকত এলাকা সার্বক্ষনিক নজরদারীতে রাখা হচ্ছে।
কলাপাড়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান জানান, কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং উশৃঙ্খল লোকজন যেন কোন ধরনের বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ইনিউজ ৭১/টি.টি. রাকিব