
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২১, ১৬:২৮

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ও উপসর্গে মৃত্যু আবার সামান্য কমেছে। তবে কমেনি করোনা সংক্রমণের হার। রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান।
এদের মধ্যে করোনা পজেটিভ ১০ জন এবং উপসর্গে ৪ জন মারা যান। রামেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ নিয়ে জুলাই মাসের ২৪ দিনে রামেক হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গে ৪৪৩ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মারা যান ১৪ জুলাই ২৫ জন ও সবচেয়ে কম ৪ জুলাই ১২ জন। এর আগে গত জুন মাসে এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে করোনা ও উপসর্গে মারা যান ৪০৫ জন।
রামেক পরিচালক জানান, নতুন মৃতদের রাজশাহীর ৮ (পজেটিভ ৭, উপসর্গে ১) জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১ (পজেটিভ) জন, নাটোরের ১ (পজেটিভ) জন, পাবনা ৩ (পজেটিভ ১, উপসর্গে ২) জন ও চুয়াডাঙ্গার ১ (উপসর্গ) জন। এদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ এবং ৬ জন নারী। এদের ৮ জনের বয়স ৬১ এর উর্ধ্বে, ৫ জনের বয়স ৫১ এর উর্ধ্বে, ১ জনের বয়স ৪১ উর্ধ্বে।

তিনি বলেন, ‘আজ রবিবার সকাল পর্যন্ত এ হাসপাতালের ৫১৩ বেডের বিপরীতে করোনা ও উপসর্গের রোগী ভর্তি রয়েছেন ৪১৬ জন। এদের মধ্যে রাজশাহীর ২০৪, চাঁপাইয়ের ৩১, নাটোরের ৬৮, নওগাঁর ৪৯, পাবনার ৪৭, কুষ্টিয়ার ১২, চুয়াডাঙ্গার ১, জয়পুরহাটের ১, মেহেরপুর ১, ঝিনাইদহের ১ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একজন।আইসিইউতে ভর্তি আছেন ১৯ জন। রবিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় রামেক হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছেন ৫৩ জন। এদের মধ্যে রাজশাহীর ২৫, চাঁপাইয়ের ৬, নাটোরের ৫, নওগাঁর ৬, পাবনার ৭ জন, কুষ্টিয়ার ১ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫০ জন।’
পরিচালক জানান, ‘রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন ৪১৬ জনের মধ্যে ১৭৮ জনের করোনা পজেটিভ রয়েছে। আর উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ১৮৮ জন। এছাড়াও চিকিৎসা নিয়ে করোনামুক্ত হওয়ার পর ফুসফুসে ইনফেকশনসহ পরবর্তি শারীরিক জটিলাতার কারণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫০ জন।’
শনিবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) ভাইরোলজি ল্যাব এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মলিকুলার ল্যাবে রাজশাহী, নওগাঁ, জয়পুরহাট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ চার জেলার ৬৩৪ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা পজেটিভ এসেছে ২২৩ জনের। রামেক ভাইরোলজি ল্যাবে রাজশাহীর ৯৬ নমুয়ায় ৪০ জনের, নাটোরের ৮৭ নমুনায় ১৫, নওগাঁর ১০৩ নমুনায় ৪৯ ও জয়পুরহাটের ১৬০ নমুনায় ৩১ জনের পজেটিভ এসেছে।
রামেক হাসপাতালের মলিকুলার ল্যাবে ১৮৮ নমুনায় ৮৮ জনের পজেটিভ এসেছে। রাজশাহীতে সংক্রমণের হার ৪৫.০৭ শতাংশ, নওগাঁয় সংক্রমণের হার ৪৭.৫৭ শতাংশ, নাটোরে সংক্রমণের হার ১৭.২৪ শতাংশ এবং জয়পুরহাটে সংক্রমণের হার দাঁড়িয়েছে ১৯.৩৮ শতাংশ।