
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ১৮:১০

রানা প্লাজা ধসের ছয় বছর পেরিয়ে গেছে। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাজধানীর অদূরে সাভারে ভবন ধসের ঘটনায় এক হাজার ১৩৬ জন শ্রমিক প্রাণ হারান। দুর্ঘটনাটি এযাবৎকালে সংঘটিত বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ শিল্প দুর্ঘটনা। অবশ্য এ দুর্ঘটনা সামাল দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত। বর্তমানে বিশ্বের সেরা ১০টি কারখানার মধ্যে বাংলাদেশে স্থাপিত হয়েছে ৭টি গ্রিন কারখানা। বেড়েছে রফতানি আয়। তবে রানা প্লাজা ধসে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের কোনও উন্নতি হয়নি। তাদের অনেকে এখনও কর্মহীন অবস্থায় দুর্বিষহ জীবন বয়ে বেড়াচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রানা প্লাজা দুর্ঘটনা যেভাবে বাংলাদেশকে বিশ্বে পরিচিতি করেছে, ঠিক এই ঘটনাটি একটি দেশের প্রধান রফতানি খাতের মোড়ও ঘুরিয়ে দিয়েছে। দুর্ঘটনার পর অনেক চড়াই-উৎরাই পাড়ি দিলেও গত ছয় বছরে তৈরি পোশাক খাতে রফতানি আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি।
বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহামান জানান, রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানা সংস্কারের নামে দেশীয় কারখানাগুলোর ওপর চরম নজরদারি চালায় উত্তর আমেরিকার ক্রেতা জোটের প্রতিষ্ঠান অ্যালায়েন্স ও ইউরোপের ক্রেতা জোট অ্যাকর্ড। এই সংগঠন দুটির চাপে দেশের এক হাজারের বেশি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এই ঘটনায় প্রায় চার লাখ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। এতকিছুর পরও গত ছয় বছরে তৈরি পোশাক খাতে রফতানি আয় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। দেশের রফতানি আয়ের ৮৪ শতাংশ অবদান রাখে এই তৈরি পোশাক খাত।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি সংস্থা ‘অ্যাকশন এইড’র এক জরিপে বলা হয়, বর্তমানে আহত শ্রমিকদের ৫১ শতাংশ বেকার। তারা এখনও কোনও কাজ পায়নি। তাদের মধ্যে ৭৪ শতাংশ শারীরিক ও ২৭ শতাংশ মানসিক দুর্বলতার কারণে কাজ করতে পারছেন না। তবে আহত শ্রমিকদের ৪৯ শতাংশ গার্মেন্টস কারখানা, টেইলারিং, দিনমজুরি, কৃষিসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করছেন। তাদের কেউ কেউ ক্ষুদ্র ব্যবসাও করেন। অ্যাকশনএইড রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় আহত ২০০ শ্রমিকের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে এ জরিপটি তৈরি করেছে।
সার্বিক বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, রানা প্লাজা ধসের ঘটনার পর এই সেক্টর ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনায় আমরা অনেক কিছু হারিয়েছি, কিন্তু পেয়েছিও অনেক। আজ বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানা অবস্থিত ভবনগুলোয় আর কোনও ঝুঁকি নেই। ভবনগুলো ঝুঁকিমুক্ত করা হয়েছে। শ্রমিকদেরও বেতনভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে। এই খাতে এককভাবে রফতানি আয় ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। সরকার এই খাতের উন্নতিতে আন্তরিক অবস্থায় রয়েছে।