দেশে মোটরসাইকেলপ্রেমীদের জন্য উচ্চ সিসির মোটরসাইকেল আমদানির পথ খুলে দিয়েছে সরকার। নতুন আমদানি নীতিতে মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনক্ষমতার সীমা বাড়িয়ে সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) এ-সংক্রান্ত নতুন আমদানি নীতির গেজেট প্রকাশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে ২০২১-২০২৪ সালের আমদানি নীতিতে সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় ১৬৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেল আমদানিতে বিধিনিষেধ ছিল। নতুন নীতি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মাঝারি ও উচ্চক্ষমতার মোটরসাইকেল সরাসরি বাংলাদেশে আমদানির সুযোগ বাড়বে।
তবে উচ্চ সিসির মোটরসাইকেল আমদানির সুযোগ বাড়ায় স্থানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাজারে বিদেশি ব্র্যান্ডের উপস্থিতি বাড়লে স্থানীয় উৎপাদন ও বিক্রয় ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়তে পারে।
নতুন আমদানি নীতিতে মোটরসাইকেলের পাশাপাশি আমদানি প্রক্রিয়াতেও বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে ঋণপত্র বা এলসির পাশাপাশি মূল্যসীমার কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে পণ্য আমদানি করতে পারবেন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আমদানিকারকেরা।
একই সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল বা ফ্রি ট্রেড জোন এবং সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউস প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের শিল্প খাতে বিনিয়োগের জন্য আমদানি সুবিধা এবং রপ্তানিমুখী শিল্পে কাঁচামাল আমদানির সুযোগও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
২০২১-২০২৪ সালের আমদানি নীতিতেও এলসি ছাড়া ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ ছিল। তবে বিভিন্ন পণ্য ও খাতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা ও শর্ত প্রযোজ্য ছিল। নতুন আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯-এ সেই সুযোগ আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রচলিত পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।