
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১৯:৪১

ভূমি অধিগ্রহণ ও স্থান নির্বাচনসংক্রান্ত জটিলতায় প্রায় এক দশক ধরে থমকে আছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প। একাধিকবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলেও এখনো মূল নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে প্রথম পর্যায়ে শ্রীমঙ্গলের জন্য মডেল মসজিদ প্রকল্প অনুমোদন পায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পটি অনেক আগেই বাস্তবায়নের কথা থাকলেও জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কাজ এগোয়নি। সর্বশেষ মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও প্রকল্পটি আরও দুই বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলার অন্যান্য উপজেলায় পরবর্তী ধাপে প্রকল্প অনুমোদন পেলেও সেখানে নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে কিংবা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অথচ প্রথম পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত হওয়া শ্রীমঙ্গল এখনো নির্মাণকাজ শুরু করতে পারেনি। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।
ইতোমধ্যে কমলগঞ্জ, রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মডেল মসজিদে নিয়মিত নামাজসহ ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কুলাউড়া ও বড়লেখা উপজেলার মডেল মসজিদ নির্মাণ শেষ হয়ে উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে জুড়ী উপজেলার মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।
শ্রীমঙ্গলে মডেল মসজিদের সম্ভাব্য স্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে নানা আলোচনা। অনেকেই শহরের প্রধান সড়কের পাশে দৃষ্টিনন্দন ও সহজে যাতায়াতযোগ্য স্থানে মসজিদ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, পর্যটননির্ভর এ শহরে এমন একটি স্থাপনা ধর্মীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি দর্শনার্থীদেরও আকৃষ্ট করবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পর্যায়ের মডেল মসজিদগুলোতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নামাজের ব্যবস্থা, পৃথক অজুখানা, ইসলামিক লাইব্রেরি, ইমাম প্রশিক্ষণ, কোরআন শিক্ষা, হিফজখানা, হজ নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন নাগরিক ও ধর্মীয় সেবা এক ছাদের নিচে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. ফারুক আলম জানান, পূর্বনির্ধারিত স্থানে স্থানীয় বিরোধের কারণে নির্মাণকাজ শুরু করা যায়নি। পরে নতুন জমি নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিভিন্ন কারণে তা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে নতুন একটি উপযুক্ত স্থান নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, এমন একটি স্থান নির্বাচন করা হচ্ছে যাতে সাধারণ মানুষ, মুসল্লি ও পর্যটক সবাই সহজে সুবিধা নিতে পারেন। দ্রুত জমি চূড়ান্ত করে নির্মাণকাজ শুরু করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।