প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১৯:১৩

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ঘিরে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতে নতুন এক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। সফটওয়্যার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ব্যাংকিং, উৎপাদনশিল্প থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের নানা ক্ষেত্রে এআইভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এআই বৈশ্বিক অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ধরন আমূল বদলে দিতে পারে।
বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন প্রজন্মের এআই মডেল, স্মার্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার তৈরিতে বিপুল বিনিয়োগ করছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশ নিজস্ব এআই অবকাঠামো গড়ে তুলতে গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে প্রযুক্তি খাতে প্রতিযোগিতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই শুধু তথ্য বিশ্লেষণেই নয়, চিকিৎসা নির্ণয়, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলবায়ু গবেষণা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উন্নত অ্যালগরিদমের মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হওয়ায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এআইনির্ভর সমাধানের দিকে ঝুঁকছে।
তবে প্রযুক্তির এই দ্রুত অগ্রগতির পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা এবং ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। এজন্য অনেক দেশ এআই ব্যবহারে নীতিমালা প্রণয়ন ও কঠোর নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্ভাবন ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে আগামী দিনের বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশেও সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। বিভিন্ন স্টার্টআপ গ্রাহকসেবা, ভাষা প্রযুক্তি, কৃষি এবং স্বাস্থ্য খাতে এআইভিত্তিক নতুন সমাধান নিয়ে কাজ করছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে দেশের প্রযুক্তি খাত আরও গতিশীল হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষ জনবল তৈরি, গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার ঘটাতে পারলে এআই বিপ্লব থেকে বাংলাদেশও উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জন করতে পারবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।