
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ২১:৩০

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতি, পানছড়ি শাখা। যৌথ উদ্যোগে এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে বিভিন্ন কর্মসূচি ও নজরদারি কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠন দুটি।
শুক্রবার প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাদক ব্যবসা, সরবরাহ ও সেবনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। সমাজে মাদকের প্রভাব কমাতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে পানছড়ির বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে ইয়াবা ও গাঁজাসহ নানা ধরনের মাদকের ব্যবহার ও কেনাবেচা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে তরুণ সমাজ বিপথে যাচ্ছে এবং সামাজিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংগঠন দুটি একাধিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মাদক ব্যবসা, পরিবহন বা সেবনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করা।
এছাড়া মাদক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামাজিকভাবে নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমাজে মাদকের বিস্তার রোধে স্থানীয় বাসিন্দা, সচেতন যুবক এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে বিশেষ নজরদারি দল গঠনের কথাও জানানো হয়েছে।

সংগঠনগুলোর দাবি, এসব নজরদারি দল এলাকায় সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তথ্য সরবরাহ করবে। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রমও জোরদার করা হবে।
মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের উদ্দেশে সংগঠন দুটি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, অবৈধ কার্যক্রম থেকে দ্রুত সরে না এলে আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিকভাবেও কঠোর অবস্থানের মুখোমুখি হতে হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর এমন উদ্যোগ মাদক প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে স্থায়ী সফলতার জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।