
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ২০:৯

তিন বছর মেয়াদের কমিটি গঠনের প্রায় আট বছর পার হলেও এখনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের। ফলে দেশের ১৭৮টি চা বাগানের ৯৬ হাজারের বেশি নিবন্ধিত ভোটার দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এতে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ, হতাশা এবং নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই বাড়ছে।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও ২০২১ ও ২০২৪ সালে নির্ধারিত নির্বাচন আর অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিই এখনো সংগঠনের দায়িত্ব পালন করছে।
চা শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় সংগঠনের ভেতরে বিভাজন ও সাংগঠনিক স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়, দাবি-দাওয়া উপস্থাপন এবং মালিকপক্ষের সঙ্গে কার্যকর আলোচনার ওপর।
সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১৭৮টি চা বাগানে পঞ্চায়েত, ভ্যালি ও কেন্দ্রীয় কমিটি শ্রমিকদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে অনেক বাগানে নির্বাচিত পঞ্চায়েত কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কোথাও কোথাও অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন চা বাগান ঘুরে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় মজুরি, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও অন্যান্য শ্রমিক কল্যাণমূলক বিষয় যথাযথভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা কঠিন হয়ে পড়েছে।

খেজুরি চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মহেশ্বর দাস বলেন, বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় মালিকপক্ষের সঙ্গে কার্যকর আলোচনা ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে ভুড়ভুড়িয়া চা বাগানের সভাপতি সুধীর রিকিয়াশন বলেন, নির্বাচনই নেতৃত্বের জবাবদিহি নিশ্চিত করে, তাই দ্রুত ভোট আয়োজন জরুরি।
নারী শ্রমিক মিতালি গোয়ালা বলেন, নিয়মিত চাঁদা দিলেও বহু বছর ধরে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না শ্রমিকরা। এতে শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। একই দাবি জানিয়ে শ্রমিক নেতা আকাশ দোষাদও দ্রুত একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানান, নির্বাচন বিলম্বের পেছনে অর্থসংকট, প্রশাসনিক জটিলতা এবং আদালতে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার প্রভাব রয়েছে। বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা প্রস্তুতসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। আইনি জটিলতা নিরসন হলে নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।