প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ১৭:২০

দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাসন্ডা নদীতে পরিচালিত যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাছ ধরার জাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। অভিযানে উদ্ধার হওয়া জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে সদর উপজেলার বাসন্ডা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেগুফতা মেহনাজ এবং সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সাইয়্যেদা। অভিযানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌ পুলিশের সদস্যরাও অংশ নেন।
মৎস্য বিভাগ জানায়, অভিযানের সময় নদী থেকে প্রায় ২২ হাজার মিটার দৈর্ঘ্যের নিষিদ্ধ জাল উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ছিল ১০টি ‘চায়না দুয়ারী’ জাল, যার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ হাজার মিটার এবং ২টি ‘বাঁধা জাল’, যার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ হাজার মিটার।
উদ্ধার হওয়া জালগুলো পরবর্তীতে ঝালকাঠি শহরের গুরুধাম এলাকায় নিয়ে প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। যাতে এগুলো পুনরায় ব্যবহার করে নদীতে মাছ নিধনের সুযোগ না থাকে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজ বলেন, দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ পরিবেশ রক্ষায় ক্ষতিকর অবৈধ জালের ব্যবহার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। যারা নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার বা বিক্রির সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের ‘মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ’ কর্মসূচির আওতায় জেলার বিভিন্ন নদ-নদী ও জলাশয়ে অবৈধ জাল, নিষিদ্ধ উপায়ে মাছ শিকার এবং অন্যান্য অনিয়ম প্রতিরোধে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বলেন, ‘চায়না দুয়ারী’ ও ‘বাঁধা জাল’ ব্যবহারের ফলে মাছের ডিম, পোনা ও ছোট মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ে, যা দেশীয় মাছের উৎপাদন ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান ও জনগণের সহযোগিতায় নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।