প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৩২

টেকনাফ (কক্সবাজার) এখন অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও মানব পাচার সিন্ডিকেটের কারণে এক ভীতিকর জনপদে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যা নামার আগেই গ্রাম-গঞ্জে নেমে আসছে অস্বাভাবিক নীরবতা, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দোকানপাট এবং রাস্তাঘাট হয়ে পড়ছে জনশূন্য। পাহাড়ঘেরা বাহারছড়া ও হ্নীলা ইউনিয়নের রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকাগুলোতে আতঙ্ক সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অপহরণের ভয়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন প্রায় স্থবির হয়ে গেছে। সন্ধ্যার পর কেউ প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না। অনেক পরিবার সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়েও দুশ্চিন্তায় থাকছেন, তারা নিরাপদে ফিরবে কিনা তা নিয়ে থাকে অনিশ্চয়তা। সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডেও পড়েছে প্রভাব, মসজিদে যাতায়াত কমে গেছে।
বাহারছড়া এলাকার এক স্থানীয় নেতা জানান, প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও অপহরণের ঘটনা ঘটছে বলে মানুষের মধ্যে ভয় আরও গভীর হয়েছে। অপরাধীরা পাহাড়ি এলাকায় গোপন আস্তানা গড়ে তুলে সেখান থেকেই তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, এই চক্রটি অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে কাজ করছে।
সম্প্রতি শিলখালী এলাকায় ট্রিপল মার্ডারের ঘটনার পর যৌথ বাহিনী অভিযান চালালেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। পরদিনই নোয়াখালী পাড়া থেকে এক শ্রমিককে অপহরণের চেষ্টা হয়, যা স্থানীয়দের প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়। এ ধরনের ঘটনায় মানুষের আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
অভিযোগ রয়েছে, অপহরণকারীরা মুক্তিপণের জন্য মানুষকে পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালাচ্ছে। টাকা দিতে ব্যর্থ হলে অনেককে মানব পাচারকারী চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। এতে করে টেকনাফ উপকূলীয় এলাকা মানব পাচারের অন্যতম রুটে পরিণত হয়েছে।

এক ভুক্তভোগী যুবকের বর্ণনায় উঠে এসেছে পাহাড়ের গোপন আস্তানার ভয়াবহ চিত্র। সেখানে চোখ বাঁধা অবস্থায় অনেক মানুষকে আটকে রাখা হয় এবং শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। সুযোগ পেলে কেউ কেউ পালিয়ে আসতে পারলেও অধিকাংশই নিখোঁজ থেকে যাচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে এই রুটে হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হলেও অপহরণ ও পাচারের ঘটনা থামেনি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শতাধিক অপহরণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা পরিস্থিতির অবনতিই নির্দেশ করছে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, কেবল সাময়িক অভিযান নয়, বরং পাহাড়ি ও উপকূলীয় এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কঠোর নজরদারি এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার না করলে টেকনাফে এই অপহরণ আতঙ্ক আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।