নোয়াখালীর সদর উপজেলায় একটি মাছের আড়তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১১৩ কেজি ওজনের একটি শাপলাপাতা মাছ (স্টিংরে) জব্দ করেছে উপকূলীয় বন বিভাগ। পরে জব্দ করা মাছটি নোয়াখালী উপকূলীয় কার্যালয়ে নিয়ে মাটিচাপা দিয়ে বিনষ্ট করা হয়।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে সদর উপজেলার সোনাপুর বাজার মাছের আড়তে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপকূলীয় বন বিভাগ নোয়াখালীর বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ইব্রাহীম খলিলের নির্দেশনায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, ভোরে সোনাপুর বাজারের একটি মাছের আড়তে এক ব্যবসায়ী বিক্রির উদ্দেশ্যে বড় আকারের একটি শাপলাপাতা মাছ নিয়ে আসেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপকূলীয় বন বিভাগের কর্মকর্তারা সেখানে অভিযান চালান। এ সময় মাঝখান থেকে কাটা অবস্থায় প্রায় ১১৩ কেজি ওজনের মাছটি জব্দ করা হয়।
তবে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে মাছের আড়তের মালিক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, শাপলাপাতা মাছ বাংলাদেশের নদী ও উপকূলীয় জলজ বাস্তুতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী। সাধারণত এটি নদী ও সাগরের তলদেশে বসবাস করে এবং ছোট মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী খেয়ে পরিবেশের খাদ্যচক্র ও ভারসাম্য রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কিন্তু অতিরিক্ত শিকার, অবৈধ বেচাকেনা এবং প্রাকৃতিক বাসস্থান ধ্বংসের কারণে বর্তমানে এ প্রজাতিটি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
নোয়াখালী জেলা বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ইব্রাহীম খলিল বলেন, বাংলাদেশ বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ, ২০২৬ অনুযায়ী এ ধরনের বন্যপ্রাণী শিকার, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত কিংবা পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বন্যপ্রাণী রক্ষায় নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।