ভারতের মেদিনীপুর দরবার শরীফের ‘মাওলা পাক’-এর ১২৫তম বার্ষিক পবিত্র ওরশ শরীফ যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পালিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে উপজেলার দৌলতদিয়া খানকা শরীফ ও গোয়ালন্দ কেন্দ্রীয় ইমামবাড়া শরীফ প্রাঙ্গণে ওরশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। দিনভর জেলা-উপজেলা থেকে হাজার হাজার ভক্ত-আশেকান ভক্তবৃন্দ খানকা শরীফ ও ইমামবাড়া শরীফে সমবেত হন। ধর্মীয় পরিবেশে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক আধ্যাত্মিক মিলনমেলায়।
রাতভর ওয়াজ মাহফিল, জিকির-আসকার, মিলাদ মাহফিল ও ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলেম-ওলামারা ইসলামের শিক্ষা, তাসাউফের গুরুত্ব ও মানবকল্যাণমূলক জীবনাচরণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান প্রদান করেন। পরে ফজরের নামাজের আগে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে ওরশ শরীফের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। আখেরি মোনাজাতে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
দরবার সূত্রে জানা যায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা পীর হযরত সৈয়দ শাহ মোর্শেদ আলী আল কাদেরী আল হাসানী আল হুসাইনী আল বাগদাদী আল মেদিনীপুরী (আঃ), যিনি ‘মাওলা পাক’ নামে সমধিক পরিচিত। তিনি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ৩২তম এবং বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর ১৯তম অধস্তন পবিত্র বংশধর হিসেবে মুসলিম বিশ্বে সমাদৃত।
এবারের ওরশ শরীফ সিলসিলা- এ- কাদেরিয়া রায্যাকিয়া মুস্তারশিদিয়া’র সাজ্জাদানশীন হুজুর পাক সৈয়দ শাহ ইয়াসুব আলী আল কাদেরী (আদামাল্লাহু ফুয়ুযাহুম)- এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর তত্ত্বাবধানে সার্বিক কর্মসূচি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় বলে আয়োজকরা জানান। সবমিলিয়ে উৎসবমুখর ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে ১২৫তম ওরশ শরীফ সম্পন্ন হয়েছে।
উরস্ শরীফে আঞ্জুমানে কাদেরিয়া দৌলতদিয়া খানকা শরীফের সভাপতি মো. মোক্তার হোসেন বেপারী, সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।