রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় ফেরির পন্টুন হতে পড়ে পদ্মা নদীতে নিখোঁজ যুবক রেজাউল শিকদারের (৩৫) সন্ধান মেলেনি শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত গত ৪ দিনেও।
সে উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহিরচর শাহাদাৎ মেম্বার পাড়ার মৃত মহিউদ্দিন শিকদারের ছেলে।
রেজাউলের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ৪ টি মাদক, ২টি ছিনতাই ও ১টি জুয়ার মামলা রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্হানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পন্টুনের উপর থেকে রেজাউল ফেরির অজ্ঞাত এক যাত্রীর মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনতাই করে পালানোর চেষ্টা করে। তখন ভুক্তভোগী যাত্রী তাকে জাপটে ধরেন। এ সময় ধ্বস্তাধস্তির এক পর্যায়ে দুজনেই নদীতে পড়ে যায়। পরে ওই যাত্রী সাঁতরে উপরে উঠতে পারলেও রেজাউল পারেনি। সে পানিতেই ডুবে যায়।
তবে রেজাউলের পরিবারের দাবি তাকে নদীতে ফেলে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
রেজাউলের বড় ভাই মোস্তফা শিকদার ও রবিউল শিকদার অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবেশী আনু খা, আইয়ুব খা, ফারুক খা, তোতা খা, সোহেল খা, ইউনুস খা গংদের সাথে জমিজমা নিয়ে তাদের দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ দ্বন্দ্বের জের ধরে তারা পরিকল্পিতভাবে আমাদের ছোট ভাই রেজাউলকে ফেরির পন্টুন হতে পানিতে ফেলে দিয়ে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে ডুবিয়ে দেয়। এটা পরিকল্পিত হত্যা। আমরা এর বিচার চাই।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আনু খা ও তার ছোটভাই ফারুক খা বলেন, আমরা এলাকায় সুনামের সাথে ব্যবসা-বানিজ্য করে খাই। কোন অন্যায় অপরাধের সাথে জড়িত নই। রেজাউল একজন চিহ্নিত মাদক সেবী, ছিনতাইকারী ও ফেরিতে তিনতাস নামক জুয়ারী চক্রের সদস্য। তার অত্যাচারে সাধারণ যাত্রীসহ এলাকার মানুষও অতিষ্ঠ। আমরা যতটুকু জেনেছি ফেরির এক যাত্রীর মোবাইল ও টাকা ছিনতাই করে সে পালানোর সময় পন্টুন হতে নদীতে পড়ে যায়। কিন্তু নেশাগ্রস্ত থাকায় আর উপরে উঠতে পারেনি। এ সময় ছিনতাইকারী বলে বিক্ষুব্ধ যাত্রীরাও তাকে উঠানোর চেষ্টা করেনি। অথচ এ বিষয়ে আমাদেরকে জড়িয়ে রেজাউলের ভাইয়েরা মিথ্যা কথা বলে চলেছে। তাদের সাথে আমাদের জমিজমা নিয়ে আদালতে মামলা ছিল। মামলায় তারা হেরেও গেছে। এতে উত্তেজিত হয়ে তারা কিছুদিন আগে অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। সে বিষয়ে আমরা থানায় অভিযোগ দেই। কিন্তু রেজাউলের এ মর্মান্তিক পরিস্হিতির সাথে তারা কোনভাবেই জড়িত নই।
এ বিষয়ে দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা জানান, পদ্মায় নিখোঁজ যুবক রেজাউলকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের সাথে তারাও অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী নিখোঁজ রেজাউলের বিরুদ্ধে ৪ টি মাদক, ২টি ছিনতাই ও ১টি জুয়ার মামলা রয়েছে। এক যাত্রীর সাথে ধ্বস্তাধস্তি করে তার নদীতে পড়ে যাওয়া কথা জেনেছি। তবে প্রকৃত কারন জানতে আমরা কাজ করছি।