
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৪, ২৩:৪৫

দুর্গাপূজার ছুটিতে কুয়াকাটা সৈকত জমজমাট হয়ে উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া ছুটির শেষ দিনেও লক্ষাধিক পর্যটক উপভোগ করতে আসেন সাগরকন্যার এ বেলাভূমিতে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীরা সমুদ্রের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সাগরের ঢেউয়ের সাথে আনন্দ উপভোগ করেন।
সকাল থেকে সৈকতে ভিড় জমাতে শুরু করেন বিভিন্ন বয়সী হাজারো পর্যটক। তবে এত সংখ্যক দর্শনার্থীর আগমনে স্থানীয় আবাসিক হোটেলগুলোতে রুম সংকট দেখা দেয়। অনেককেই পার্শ্ববর্তী এলাকায় থাকতে হয় এবং কিছু পর্যটক স্থান না পেয়ে ফিরে যান। এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেকেই, যাঁরা আগাম বুকিং করেননি।
কুয়াকাটার সৈকত এবং এর আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোতে ঘুরে বেড়াতে এসে পর্যটকেরা আনন্দে মেতে ওঠেন। কেউ সমুদ্রে গোসল, আবার কেউ বালিয়াড়িতে পিরামিড তৈরি করেন। সকালে সূর্যোদয় ও সন্ধ্যায় সূর্যাস্ত দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন তাঁরা। রাতের বেলায় সৈকতে ফিস ফ্রাই খাওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনও দেখা যায়।
এবারের পূজার ছুটিতে লক্ষাধিক পর্যটক এসে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে এনেছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত চার দিনে শত কোটি টাকার কেনাবেচা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ অত্যন্ত তৎপর ছিল।

ঢাকা থেকে আগত পর্যটক আনিসা রহমান বলেন, “আগে এখানে নানা অব্যবস্থাপনা দেখেছি, কিন্তু এবার পরিবর্তন অনুভব করেছি।” অন্যদিকে মনসুর আলম জানান, কুয়াকাটা একটি অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে।
আবাসিক হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এম এ মোতালেব জানান, পূজার ছুটিতে শতভাগ বুকিং ছিল। এদিকে ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনছার উদ্দিন জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন ছিল।
এছাড়া স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ পর্যটকদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে তাদের স্বাগত জানান। এই ধরনের উদ্যোগ পর্যটন শিল্পকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৃদ্ধি পাচ্ছে কুয়াকাটার পর্যটন শিল্প, কিন্তু সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলের পর্যটনকে আরও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তা আছে।