
প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৪, ২৩:১৩

কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারীতে এক অদ্ভুত ঘটনার শিকার হয়েছেন আলেয়া খাতুন। তিনি জীবিত থাকা সত্ত্বেও উপজেলা সমাজসেবা বিভাগ তাকে মৃত হিসেবে দেখিয়ে বিধবা ভাতা বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ৬৫ বছরের এই বিধবা।
জানা গেছে, ৫ বছর আগে আলেয়ার স্বামী মারা যান। মৃত্যুর পর তিনি সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিধবা ভাতার তালিকাভুক্ত হন এবং দেড় বছর ধরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাতার টাকা উত্তোলন করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি তার মোবাইলে টাকা আসা বন্ধ হয়ে যায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান এবং মেম্বারের কাছে যাওয়ার পর কোন সমাধান না পেয়ে তিনি উপজেলা সমাজসেবা অফিসে গিয়ে জানতে পারেন যে, তার নাম মৃতদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ খবর শুনে তিনি হতবাক হন।
আলেয়া খাতুন চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের স্ত্রী। তার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ৪৯১০৬৪৭৪৫০৮৬২ এবং জন্ম তারিখ ১৪ নভেম্বর ১৯৫৯। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে স্বামী মারা গেছে। ভাতার টাকা আমার একমাত্র উপার্জনের উৎস ছিল। হঠাৎ করে ভাতার টাকা আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছি।”
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে মোট ১৩ হাজার ৮৬৪ জন বয়স্ক ভাতা, ৭ হাজার ৬৪১ জন বিধবা ভাতা এবং ৬ হাজার ৮০৭ জন প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী রয়েছেন। প্রতি তিন মাস পর পর মোবাইলে ভাতার টাকা বিতরণ করা হয়।
চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মানিক উদ্দিন বলেন, “আমি নিশ্চিত আলেয়া খাতুন জীবিত। তার নামে কোন মৃত্যু সনদ অফিসে দেয়া হয়নি। এটি একটি ভুল, এবং আমরা বিষয়টি তদন্ত করব।”
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শামসুজ্জামান জানান, আলেয়ার নাম মৃত্যুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ইউপি চেয়ারম্যানের তালিকার কারণে। তিনি জানান, “সফটওয়্যারে মৃতদের নাম থেকে জীবিত হিসেবে ফিরিয়ে আনতে সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং শীঘ্রই সমাধান পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।”
এ অবস্থায় আলেয়া খাতুনের জন্য দ্রুত সমাধান আশা করছে স্থানীয়রা, যাতে তিনি পুনরায় তার বিধবা ভাতা ফিরে পেতে পারেন।