প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১৯:২
বর্ষাকালে যমুনা নদীর স্রোতের সঙ্গে লড়াই করে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন চরম প্রতিকূলতার মুখোমুখি। নদীর তীর ভেঙে যাওয়ার ফলে চরাঞ্চল জলমগ্ন হয়ে যায়, আর এখানকার মানুষের শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা অনেকটাই পিছিয়ে থাকে। অথচ, এই দুরূহ পরিবেশের মধ্যেও চরাঞ্চলের কৃষকরা কৃষির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ভুঞাপুর উপজেলার যমুনা নদীর চরাঞ্চলের কৃষকরা নানা প্রকার শাকসবজি, শস্য, ডাল, মসলা, এবং অর্থকরী ফসল উৎপাদনে বিশেষ সফলতা অর্জন করেছেন। তাদের চাষের মধ্যে রয়েছে ধান, পাট, সরিষা, বাদাম, ভুট্টা, মরিচ, তিল, তিষি, কাউন, খেসারি, মশারি, মাস কালাই, মুগ, পেঁয়াজ, রসুন, হলুদ, আদা, কালো জিরা, ধনিয়া এবং বিভিন্ন ধরনের মশলা। এছাড়া, তারা গবাদিপশুর খাদ্য হিসাবে বিভিন্ন জাতের ঘাস ও তামাক পাতাও উৎপাদন করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরাঞ্চল বছরে তিন মাস পানির নিচে থাকলেও, পানি চলে গেলে কৃষকরা ধান, বাদাম, ভুট্টা ও অন্যান্য ফসলের চাষ শুরু করেন। শীত মৌসুমে, তাদের ফসলের মধ্যে থাকে সব রকমের শাকসবজি, ডাল এবং মসলা। বসন্তে শুরু হয় পাট, তিল এবং তিসি বুননের তোড়জোড়। ইদানিং তারা ক্যাপসিকাম চাষেও ঝুঁকছেন, এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সব ফসলের বাম্পার ফলন হচ্ছে।
তবে, চরের কৃষকরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। অতি খরা ও শৈত্যপ্রবাহ ফসলের ক্ষতি সাধন করে। সার, বীজ, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের অভাব রয়েছে, যা তারা নলিন হাট, গোবিন্দাসী হাট এবং ভুঞাপুর শহর থেকে সংগ্রহ করেন। সেচ সঙ্কট একটি বড় সমস্যা, এবং চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক, নৌকার উপর নির্ভরশীল। উৎপাদিত ফসল তারা চর শুশুয়া, সোনামুই, নলিন, পিংনা, গোবিন্দাসী সহ বিভিন্ন হাটে স্বল্প দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন, যার ফলে মধ্যস্বত্বভোগী পাইকাররা বেশি লাভবান হন।
চরাঞ্চলের কৃষকদের মতে, সরকারকে চরাঞ্চলের কৃষির প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। কৃষিতে ভর্তুকি, ঋণ ও প্রণোদনা বৃদ্ধি করতে হবে। সমতলের কৃষি এখন প্রযুক্তি নির্ভর হলেও, চরাঞ্চলের কৃষকরা এদিক থেকে অনেক পিছিয়ে আছেন। তারা প্রযুক্তি নির্ভর কৃষির প্রচলন বাড়ানো, উৎপাদিত পণ্যের সঠিক বিপণন ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়া উন্নত করার দাবি জানিয়েছেন।
শুশুয়া ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি মোমিনুর রহমান বলেছেন, "চরাঞ্চলের কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়াতে ভর্তুকি মূল্যে সার, বীজ প্রদান করার পাশাপাশি নদীর প্রবাহ ঠিক রাখতে নিয়মিত ড্রেজিং করা উচিত। কালাই মাড়াই, ভুট্টা মাড়াই মেশিনসহ কৃষি প্রযুক্তির সরবরাহ বাড়ানো এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন।"
চরাঞ্চলের কৃষকদের সুবিধা বৃদ্ধি করতে এবং তাদের উৎপাদন সক্ষমতা উন্নত করতে প্রযুক্তি নির্ভর কৃষি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হলে, তারা দেশের কৃষি ও অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবেন।