প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৩, ০:৪৭
ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলমের ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর।
সোমবার (১৭ জুলাই) নির্বাচন ভবনে ভোট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
ইসি আলমগীর বলেন, একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী তার সমর্থকদের নিয়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে চেয়েছিলেন। তার সঙ্গে ৭০ জনের মতো ইউটিউবার ছিল। তো প্রার্থী ছাড়া অন্য কেউ তো কেন্দ্রে ঢুকতে পারে না। তাই তাদের বের করে দিয়েছে পুলিশ। পরবর্তীতে কেন্দ্রের বাইরে তাকে কে বা কারা মারধর করেছে।
তিনি বলেন, আমরা এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে পুলিশকে মামলা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। জানতে পেরেছি এরই মধ্যে হিরো আলমের ওপর হামলাকারী একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গুলশান, বনানী ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন মোহাম্মদ আলী আরাফাত (মোহাম্মদ এ আরাফাত)। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিপরীতে কোনো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। তবে বগুড়ার ছেলে আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলমকে নিয়ে এখানে আলোচনায় রয়েছেন।
হিরো আলম বিকেল ৩টার দিকে বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি একটি নারী ভোটকেন্দ্রে যান। এ সময় একদল লোক পেছন থেকে হিরো আলমকে উদ্দেশ্য করে গালাগালি করতে থাকেন এবং কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে কেন্দ্রটির দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা হিরো আলমকে ঘিরে রেখে স্কুলের ফটকের দিকে নিয়ে যান। তখনো পিছু নেন তারা।
স্কুলের প্রাঙ্গণ থেকে বেরোনোর পরে হিরো আলমের পাশে পুলিশ সদস্যরা ছিলেন না। স্কুল থেকে বের হয়ে ফটকের সামনে দিয়ে সোজা বনানী ১৬ নম্বর সড়কের দিকে দ্রুত এগোতে থাকেন হিরো আলম। এর একপর্যায়ে হামলাকারীরা হিরো আলমকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেন, তখন তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন তারা।
হিরো আলমের সঙ্গীরা তাকে উদ্ধার করে সামনের দিকে নিয়ে যান। তবে ২৩ নম্বর সড়কের এ ব্লক পর্যন্ত হিরো আলমকে পেছন থেকে ধাওয়া করেন হামলাকারীরা। এ সময় তাদের একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘সে (হিরো আলম) করে টিকটক, সে হলো জোকার, সে কেন গুলশান-বনানীর এমপি হতে চায়? এমপির মানে সে জানে?’ কেউ কেউ আবার বলছিলেন, ‘তারে খালি দৌড়ানি দে, মারধর করা লাগব না।’
হিরো আলম চলে যাওয়ার পর হামলাকারীদের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
এদিকে, আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে হিরো আলমকে। হিরো আলমের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়ক মো. ইলিয়াস বলেন, রামপুরায় বেটার লাইফ হাসপাতালে নেওয়া হয় হিরো আলমকে। চিকিৎসা চলছে। পরে সবকিছু জানা যাবে।