প্রকাশ: ৬ মে ২০২৩, ২:১৬
বরিশালসহ পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ প্রার্থী হলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি রয়েছে দলটির। এমন অবস্থায় দোটানায় রয়েছেন দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা। আর বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত বরিশাল সিটিতে বিএনপির ভোট পাওয়া না পাওয়া নিয়ে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে চলছে নানা হিসাব নিকাশ। আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা তাকিয়ে আছে বিএনপির ভোট ব্যাংকের দিকে। তবে নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিল ও প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত প্রার্থিতা নিয়ে চমকের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কেননা ইতোমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা প্রয়াত আহসান হাবিব কামালের পুত্র কামরুল আহসান রুপন। আর তিনি যদি নির্বাচন করেন তাহলে পাল্টে যেতে পারে সব হিসাব। এদিকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পদধারীসহ বেশ কিছু নেতাকর্মী কাউন্সিলর পদে মাঠে রয়েছেন।
আগামী ১২ জুন অনুষ্ঠিত হবে বরিশাল বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ভোটার ও সাধারণ মানুষদের মাঝে চলছে ভোট নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সিটি নির্বাচন বর্জন করেছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে ব্যাপক সাড়া ফেলা বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। তাই জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা বিএনপির ভোটারদের কাছে টানতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। কেউ কেউ মনে করছেন নগর উন্নয়নের স্বার্থে বিএনপির ভোট নৌকায়ও চলে আসতে পারে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একসময় বরিশাল ছিল বিএনপির ঘাঁটি। তাদের একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে। এই ভোট আওয়ামী লীগের পাশাপাশি জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনে যাবে। জাপা ও ইসলামী আন্দোলন বিএনপির ভোটে ভাগ বসাতে চাচ্ছে। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় তাদের ভোট নির্বাচনে জয়ের ক্ষেত্রে বড় ভুমিকা রাখবে। তবে বিএনপির ভোট নিয়ে সব হিসাব নিকাশ পাল্টে যেতে পারে। কেননা দলটি নির্বাচনে না এলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন সাবেক মেয়র প্রয়াত বিএনপি নেতা আহসান হাবিব কামালের পুত্র কামরুল আহসান রুপন। তার আশা যেহেতু বিএনপির রাজনীতির সাথে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন তার পিতা। সে হিসেবে বিএনপির ভোট তার পক্ষেই যাবে। কামরুল আহসান রুপন বলেন, বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবে না। এই সরকারের অধীনে বিগত ১৫ বছরে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। গায়ের জোরে তারা ক্ষমতায় আসীন আছে। এই সরকারের অত্যাচারের কারণে সাধারণ ভোটাররা ও বিএনপির ভোটাররা আওয়ামী লীগ সরকারের বিপক্ষে ভোট দেবেন। এছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি বিজয়ী হবেন।
এদিকে মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পর বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ একাধিক ভার্চুয়াল সভায় নৌকার পক্ষে মাঠে নামার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি নেতাকর্মীদেরও নৌকার প্রচারণায় নামার নির্দেশ দেন তিনি। তবে এখন পর্যন্ত মাঠে নেই তার অনুসারীরা। খোকন সেরনিয়াবাতের সঙ্গে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন সাদিকবিরোধীরা। তাদের নিয়েই প্রতিদিন মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন নৌকার প্রার্থী খোকন সেরনিয়াবাত। এছাড়া খোকন অনুসারী নেতারা প্রকাশ্যেই বলে বেড়াচ্ছেন সাদিক অনুসারী নেতাকর্মীরা মাঠে নামলে উল্টো নৌকার ক্ষতি হবে। ফলে আ.লীগের নিজেদের ভোটেই বিভাজন সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ফায়দা লুটতে পারে অন্য প্রার্থীরা। তবে মহানগর আওয়ামীলীগ নেতারা বলছেন নৌকার বিজয়ে তারা সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করবেন এবং নৌকার বিজয় হবে।
সূত্রমতে, ২০ বছর আগে পৌরসভা থেকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরিত হয় বরিশাল। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ৪ বার নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে দুইবার আওয়ামী লীগ ও দুইবার বিএনপির প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। সবশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে মেয়র নির্বাচিত হন মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। তবে এবারের নির্বাচনে তার মনোনয়ন না পাওয়া, দলের মধ্যে বিভক্তি এবং বিএনপি নির্বাচনে না আসায় পাল্টে যেতে পারে সব হিসাব নিকাশ। অবশ্য অন্যান্য সময়ের তুলনায় বরিশাল সিটিতে শক্ত অবস্থানে আছে আওয়ামীলীগ। দলের সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে আওয়ামীলীগ হ্যাট্রিক করবে, অন্যদিকে চমক থাকতে পারে বিএনপির ভোটে এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক মহল।
প্রসঙ্গত: বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৬ মে, মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৮ মে, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল ১৯ মে থেকে ২১ মে, আপিল নিষ্পত্তি ২২ থেকে ২৪ মে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৫ মে। প্রতীক বরাদ্দ ২৬ মে এবং ভোটগ্রহণ হবে ১২ জুন। বরিশাল সিটিতে বর্তমানে মোট ভোটার ২ লাখ ৭৪ হাজার ৯৯৫ জন।