
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২২, ১৬:৫৩

চলতি বছরের ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে বরিশাল জেলা পরিষদ নির্বাচন। হিজলা উপজেলা থেকে সাধারণ সদস্য পদের জন্য লড়ছেন তিন জন প্রার্থী। দিন যত এগিয়ে আসছে ত্রি রত্নের লড়াইটাও বেশ জমে উঠতে শুরু করেছে । প্রার্থীগণ ব্যস্ত সময় পাড় করছেন ভোটারদের আশির্বাদ পেতে।
জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য পদ পেতে লড়াইয়ে হিজলার তিনজন প্রার্থীরা হলেন পণ্ডিত শাহাবুদ্দিন আহমেদ, মোঃ ফারুক ইসলাম সরদার, কাজী কামরুজ্জামান সাইলু। তারা আওয়ামীলীগের তিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হলেও অনুসারী হিসেবে দুই ভাগে বিভক্ত।
৮১জন ভোটারের ভোট রয়েছে এই ওয়ার্ডে। হারুন পাটোয়ারী নামের একজন ইউপি সদস্যের মৃত্যুর কারণে ৮০ জন ভোটারের ভোটে একজন নির্বাচিত হবেন জেলা পরিষদের সাধারণ সদস্য হিসেবে। সরকারি হিজলা কলেজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে ভোট গ্রহণ। আর সেই কাঙ্ক্ষিত ফলাফলে কে হবেন সাধারণ সদস্য সেই অপেক্ষায় এলাকাবাসী। জনগণের সেবা করার ব্রত নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং হিজলার রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনজন প্রার্থীর বিচরণের বিষয়ে প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় প্রার্থীদের সাথে,
পণ্ডিত শাহাবুদ্দিন আহমেদ যিনি তালা প্রতীক নিয়ে জেলা পরিষদ সাধারণ সদস্য পদের জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামীলীগের ২নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। স্বাধীনতার পরে তিনিই প্রথম আওয়ামীলীগের প্রার্থী হয়ে বড়জালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে তার শুরুটা ১৯৭৭-৭৮ সালে বিসিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্কুল শাখার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ দিয়ে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি

এরপর থানা শাখার ছাত্রলীগের সহ সভাপতি ছিলেন ১৯৮৩-১৯৮৭ সাল পর্যন্ত এবং আহবায়ক ছিলেন ১৯৮৭-১৯৮৯ সাল পর্যন্ত। পরবর্তীতে বাংলাদেশ কৃষকলীগের উপজেলা শাখার আহবায়ক ছিলেন ১৯৯৭-২০০৪ সাল পর্যন্ত এবং সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন ২০০৪-২০১৩ সাল পর্যন্ত। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ লাভ করেছেন ২০১৩ সালে যা এখনো বর্তমান। এছাড়াও তিনি উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এবং একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।
জেলা পরিষদের নির্বাচনের ব্যাপারে জানান, একটি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাচ্ছেন তিনি। যাতে ভোটারগণ ভোট কেন্দ্রে এসে নির্বিঘ্নে ভোট প্রদান করে আবার নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে পারেন। এ ব্যাপারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।
মোঃ ফারুক সরদার যিনি টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। তিনিও উপজেলা আওয়ামীলীগের ৩নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য পংকজ নাথ তাকে সমর্থন দিয়েছেন। ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট পাওয়ার আশা নিয়ে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন এখন। রাজনীতিতে তিনি আসেন ১৯৮৩ সালে। একটা সময় হিজলায় সর্বহারা পার্টির দাপটে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ ছিলো।
১৯৯১ সালে সর্বহারা নির্মূল কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন তিনি। আনুষ্ঠানিক ভাবে ২০০২ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে হরিনাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১২ সাল পর্যন্ত একই পদে বহাল ছিলেন। এরপর তিনি উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ লাভ করেন।

হিজলা কলেজে দু'বার নির্বাচিত সদস্য হয়েছেন। বর্তমানে মেমানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নির্বাচিত সভাপতি। হরিনাপুর বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন। তার ছেলে রয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে। ভোটে তিনি জয়লাভ করবেন বলে আশাবাদী। ভোটারদের কাছে তিনি আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন বলে ব্যক্ত করেন।
ভোটে জয়লাভ করলে নিজের জন্য নয় জনগণের স্বার্থে তিনি কাজ করে যাবেন। তিনি এটাও জানিয়েছেন ভোটারদেরকে গোপনে চোখ রাঙানো হচ্ছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারেন সে জন্য তিনিও প্রশাসনের সাহায্য কামনা করছেন।
কাজী কামরুজ্জামান সাইলু যিনি হাতি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি প্রবীণ আওয়ামীলীগ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত শাহজাহান কাজীর ছোট ছেলে। তিন জন প্রার্থীর মধ্যে তিনি সবচেয়ে নবীন। তিনি জানান, বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগ ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সমর্থিত একক প্রার্থী তিনি।
রাজনীতির শুরুতে স্কুল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন শেষে উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক ছিলেন। ভোটে জয়লাভের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী তিনি। ভোটারদের সমর্থন রয়েছে তার প্রতি। ভোটাররা তার সাথে যোগাযোগ রাখছেন। নবীন হিসেবে তাকে অনেকেই পছন্দ করছেন।
তিনি জানান, আওয়ামীলীগ পরিবারের সদস্য হয়েও আওয়ামীলীগের সময়টাতে তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছেন। ভোটারগণ সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ভোটের মাধ্যমে আমাকে নির্বাচিত করে তাদের পাশে দাড়াতে সাহায্য করবেন এটাই প্রত্যাশা।
সাধারণ জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সদস্যরা নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন জেলা পরিষদের সদস্য। পেশি শক্তির ভয়ে বা অর্থনৈতিক লোভে না পড়ে যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য স্থানের মর্যাদা দিবেন ভোটারগণ এমনটাই আশা করছেন এলাকাবাসী।