
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২২, ২৩:৪০

মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে প্রায় চার বছর এখানে ওখানে ঘুরে অবশেষে নিজ পরিবারে ফিরে যেতে পেরেছে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক আমান উল্লাহ। গত বুধবার বিকেলে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশের মধ্যস্থতায় আমান উল্লাহকে তার পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। আমানকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে পরিবারের সদস্যরা।
পুলিশ সূত্রে জানাযায়, সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া থানার কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের রায়টা এলাকার মৃত মনির উদ্দিন সরদারের ছেলে আমান উল্লাহ সরদার (২৮) প্রায় চার বছর আগে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। স্মৃতি হারানো আমান কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে চলে আসে।
ইসলামপুর গ্রামে বাসিন্দারা জানান, প্রায় চার বছর আগে চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের শহিদুলের ঘাট এলাকায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবককে দেখতে পাওয়া যায়। তোজাম উদ্দিন নামের একব্যক্তি আমানকে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে সেবা যত্ন করে থাকতে দেন। কিছুদিন সেখানে থাকার পর ওই এলাকার মিজানুর রহমানের বাড়িতে প্রায় দুই বছর থাকে আমান। এরপর সে ওই গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে চান মিয়ার বাড়িতে গিয়ে ওঠে। প্রায় ছয় মাস সেখানে থাকে সে।
কিছুদিন আগে ভ্যান গাড়িতে করে উপজেলা সদরে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পায় আমান উল্লাহ। ভ্যানচালক রজব আলী তার প্রাথমিক চিকিৎসা করায়। অবস্থার অবনতি হলে স্থানীয় আব্দুর রহিম, মাইদুল ইসলাম, ছামিদুল হক ও শিপন মিয়া স্থানীয়দের সহযোগিতায় তার চিকিৎসা করান। পরে চন্দ্রভান নামের এক নারীর সেবাযত্নে কিছুটা সুস্থ হলে সম্প্রতি আমান তার বাবা-মা ও ভাইয়ের নামসহ এক পর্যায়ে নিজের পুরো ঠিকানা বলতে পারে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি

ইসলামপুর এলাকার মানিক উদ্দিন বেপারী ভূরুঙ্গামারী থানাকে আমানের ঠিকানা দিলে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ সাতক্ষীরার কলারোয়া থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে আমান উল্লাহর পরিবারকে খুঁজে পায়। আমান উল্লাহর বড় ভাই মজিবর সরদার পুলিশের কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে গত সোমবার ছোট ভাইকে বাড়িতে নিয়ে যেতে ভূরুঙ্গামারী আসেন।

মজিবর সরদার বলেন, ‘আমান প্রায় চার বছর আগে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে সেখান থেকে হারিয়ে যায়। কয়েকদিন আগে কলারোয়া থানা থেকে জানায় সে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে আছে। আমরা তাকে ফিরে পাওয়ার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে তাকে ফিরে পেলাম। এলাকাবাসির প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ।'
ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ভারসাম্যহীন যুবকের বিষয়ে কলারোয়া থানায় যোগাযোগ করে তার পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়। বিভিন্ন ভাবে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে আমান উল্লাহকে তার দুই বড় ভাইয়ের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।'