
প্রকাশ: ৯ আগস্ট ২০২২, ১৭:৪০

সোমবার বিকেল ৪টা। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা গ্রামের বিলের মাঠে দেখা হলো কৃষক জিল্লুর রহমানের সঙ্গে। রাস্তার পাশে কোদাল হাতে দাড়িয়ে ছিলেন হতাশ মুখে। তার দৃষ্টি একবার রাস্তার পাশে ছোট্ট একটি পুকুরের দিকে আরেকবার রাস্তার উপর থাকা পাটের দিকে। টানা ৮ দিন রাস্তার উপর রয়েছে পাট। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি না থাকায় জলাশয়ের অভাবে জাগ দিতে পারেননি। অর্ধেক পাট প্রখর রোদে শুকিয়ে গেছে রাস্তায়।
কৃষক জিল্লুর রহমান বললেন, 'পাট বুইনি হাড়ভাঙা খাইটি দাম নাই, খালি পাট-ই না কুনু আবাদ কইরি আমাদের শান্তি নাই। আবার চারিদিক থিকে সবকিছুর দামই বাড়ছে। ৮২ ট্যাকার ডিজেল ত্যাল ১১৫ ট্যাকা দরে ৬ লিটার কিনি পুকুরে পানি দিইছি। মেগ (মেঘ) নাই বৃষ্টি নাই তাই পুকুরেও পানি থাকছে না, শুকি (শুকিয়ে) যাইছে।'
এই কৃষক আক্ষেপ করে আরো বলেন, 'সারের দাম বাড়িছে, ত্যালের দাম বাড়িছে সবকিছুই বাড়িছে। মটারে পানি দিবো কারেন্ট (বিদ্যুৎ) থাকছেনা ১০-১২ ঘন্টা কইরি। কম খরচে পুকুরে পানি দিবো তার কুনু সুযোগ নাই। এদিকে আবার পাট জাগ দিতে পারছিনি পানি আবানে (অভাবে)। পাট'নি পাগল হইয়ি যাইছি, কে শুনবে আমার কথা?'

পাট জাগ দেওয়ার সমস্যা নিয়ে কৃষকদের রিপন রাইটিং পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দিয়ে গাংনী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাসেল রানা জানান, 'কৃষকেরা যদি রিপন রাইটিং পদ্ধতি ব্যবহার করে তবে স্বল্প জায়গায় অধিক পাট জাগ দিতে পারবে। চলমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় রিপন রাইটিং পদ্ধতির গুরুত্ব বোঝাতে কৃষকদের নিয়ে আলোচনার কথাও জানান তিনি।'
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি