
প্রকাশ: ৪ জুন ২০২২, ২০:১১

গত কয়েক বছরে কচু চাষে বাম্পার ফলন হওয়ায় বেশ লাভবান হয়েছিল মেহেরপুরের কৃষকেরা। আবারো লাভের আশায় আগাম কচু রোপণ করেছিলেন কৃষকেরা। মেহেরপুর সদর উপজেলা, গাংনী ও মুজিবনগর উপজেলার বিভিন্ন মাঠ জুড়ে ব্যাপক ভাবে আবাদ হয়েছে কচুর। ইতিমধ্যেই বাজারে উঠতে শুরু করেছে নতুন কচু। তবে এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় বাজার মূল্য অনেকটা কম বলে জানান কৃষকেরা।
মেহেরপুরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতারা নতুন সবজি হিসেবে কচু ক্রয় করছেন বেশ আগ্রহের সাথে। গাংনী উপজেলার বামন্দী কাঁচা বাজারের সবজি ব্যাবসায়ী আবুল হাসেম জানান, অন্য বছরে আগাম কচু ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এবার বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা কেজি দরে।
পাইকারি কচু ব্যাবসায়ী রমজান আলী জানান, এবছরে প্রতি বিঘা জমির কচু বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ হাজার টাকায়। যা গত বছরে বিক্রি হয়েছিল ১ লক্ষ টাকায়।
কথা হয় বেশ কয়েকজন কচু চাষির সঙ্গে, গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা মাঠের কচু চাষি গোলাম মোস্তফা জানান, কচু বর্তমানে লাভজনক ফসল। বিগত বছরগুলোতে বাজার মূল্য ভালো হওয়ায় অনেকেই ঝুঁকেছেন কচু চাষে। আগাম কচু খুচরা বাজারে ৮০-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়। পরবর্তীতে তা কমতে কমতে ৬০ টাকা বা ৪০ টাকায় নেমে আসে। কিন্তু এবছরে শুরুতেই স্থানীয় বাজারে খুচরা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি

মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে ঘুরে এখন ব্যাপক কচু চাষ লক্ষ্য করা গেছে। কারও জমিতে কচু তোলার সময় হয়েছে। কারও জমিতে আরও কয়েকদিন পর কচু তোলা হবে। তবে অনেকেই তাদের জমির কচু আগাম বিক্রি করে দিয়েছেন। যা ব্যবসায়ীরা তুলে নিয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।
মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (শস্য) কামরুজ্জামান বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ হাজার ৫৯০ হেক্টর জমিতে কচু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে মেহেরপুর সদর উপজেলায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে, গাংনী উপজেলায় ১৩০ হেক্টর এবং মুজিবনগর উপজেলায় ৪৬০ হেক্টর জমিতে কচু চাষ করা হয়েছে।