
প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ২৩:১১

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইলের অরুয়াইল বাজারে দখলের রাজত্ব এমন সংবাদ অনেক আগের। কিছু দিন আগে দেশের জাতীয় পত্রিকাসহ বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়া ও সরাইল উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় একাধিকবার আলোচনা হয় এ দখল উদ্ধার ও নদীর নাব্যতা রক্ষা করতে। তার পরেও আছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চিঠি।এ দখলের বিরুদ্ধে এলাকা বাসীর লিখিত অভিযোগওজনপ্রতিনিধিদের এ দখলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বক্তব্য দেওয়া হলে।
গত শুক্রবার(১৮ফেব্রুয়ারী) সকালে সরাইল উপজেলার অরুয়াইল বাজারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো.আরিফুল হক মৃদুলের নেতৃত্বে প্রশাসনের কর্মকর্তা গণ যান অরুয়াইল বাজারে সামাজিক ফেসবুকসহ গণমাধ্যমে এমন একটি সংবাদ পাওয়া যায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল বাজারে অভিযান পরিচালনা করে নদী দখলদারদের তালিকা করলেন সরাইল উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করেন সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো.আরিফুল হক মৃদুল এ সময় সঙ্গে ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)ফারহানা নাসরিন, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম,ভূমি রাজস্ব কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন,সার্ভেয়ার ওয়াসিম আকরাম,সরাইল থানা পুলিশ ও ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাগণ।
উপজেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।তারা জানিয়েছেন,প্রায় দুই বছর আগে উপজেলা প্রশাসন এ দখলদারদের বিরুদ্ধে আগেও এমনভাবে লাল চিহ্ন এবং মেপে দাগ দিয়েছিল।কিন্তু উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়নি।এরপরে আরো নতুনভাবে এখন তখন দখল হয়েছে অনেক নদীর জায়গা।

উল্লেখ্য,সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশ রিপোর্টের সামান্য লিখিত অংশের হেড লাইন' অরুয়াইলে তিতাসের ভাগ্য বদলায়নি'বেড়েছে দখল দূষণ" অরুয়াইল নদী ভরাট, অবৈধ দখল ও তৈরি স্থাপনার চিত্র বিভিন্ন মিডিয়ায় সচিত্র প্রতিবেদনে। বিস্তর লেখালেখি হয় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি জায়গায় দোকান মার্কেট করা অবৈধ প্রতিষ্ঠানে (লাল× চিহ্ন)দেন তৎকালীন সরাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ফারজানা প্রিয়াঙ্কা। অরুয়াইল বাজারের অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হলেও আজওপর্যন্ত অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে কোন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়নি স্থানীয় প্রশাসন। বাজারে গেলে মহিলা মার্কেট, ফেরি দোকান ও অরুয়াইল বাজারে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন করা ঘাটলা দখলদারা দহল তবিয়তে আছে। এখন আবার দখল করছে ব্রীজ এলাকায়। যার ছবি দেওয়া আছে।অরুয়াইল বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি আওয়ামীলীগ সভাপতি আবু তালেব মিয়া বলেন, অরুয়াইল তিতাস নদী ও বাজার দখলের বিষয়ে উপজেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভায় একাধিক বার বলেছি। এসিল্যান্ড ম্যাডাম বাজারে অবৈধ দোকানে লাল চিহ্ন দিয়ে গিয়েছিল। তার পর ও আজও পর্যন্ত এই ব্যাপারে কিছু হয়নি। আমরা বললে আরোও দোষী হয়। এখন তো ব্রিজ থেকে শুরু হয়েছে দখলের রাজত্ব।
এদিকে সরাইল উপজেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ বছর ধরে উপজেলার অরুয়াইল বাজারের পাশ দিয়ে প্রবাহিত তিতাস নদী দখল করে পাকা ঘর নির্মাণ করে ব্যবসা করছেন দখলদাররা। এ অভিযানে ১৬জন দখলদারের তালিকা করেছেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা। আবারও নকশা দেখে সার্ভেয়ারের মাধ্যমে মেপে দখলকৃত সরকারি জায়গায় নির্মিত দোকান চিহ্নিত করেন(× )লাল রঙ দিয়ে ক্রসচিহ্ন দেন। পরবর্তীতে নদী রক্ষা কমিশনের নির্দেশে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানাযায়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দৃষ্টিগোচর হলে,ফেসবুকের কমেন্টে আরিফুল ইসলাম সুমন, লেখেন,এমন লাল চিহ্ন দুইবছর আগেও দিয়েছিল উপজেলা প্রশাসন। পরে সেই লাল চিহ্নের ওপর সবুজ রং এঁকে দেয় দখলদার। তবে এখন দেখার বিষয়,উনারা শেষ পর্যন্ত করেন কি? এমন প্রশ্ন সরাইল উপজেলার হাজারো মানুষের !
এ ব্যপারে সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, মো. আরিফুল হক মৃদুল সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে দেখে,সার্ভেয়ার দিয়ে মেপে যারা নদীর জায়গা দখল করে দোকানপাট করে ব্যবসা করছেন তাঁদের তালিকা করেছি। দখলদারদের নাম জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন পাঠাবো। নদী রক্ষা কমিশনের নির্দেশে পরবর্তীতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগীতায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত করা হবে বলে তিনি জানান।