
প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৭:২৮

ভূঞাপুর প্রতিনিধি: রূপচর্চা ও প্রসাধনের জন্য বিউটি পার্লারে যান না এমন ফ্যাশন অসচেতন বঙ্গললনা পাওয়া দূর্লভ। নারীদের বড় একটি কর্মের স্থান জুড়ে আছে বিউটি পার্লার। পার্লারের জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সীমিত আকারে হলেও ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামগঞ্জের আনাচে কানাচে। আদিবাসী নারীদের পাশাপাশি বাঙ্গালী নারীরাও বিউটিশিয়ানের প্রশিক্ষণ নিয়ে পার্লারের কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে। পরিপাটিভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে তোলার মাধ্যমে গৃহবধূ তথা কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীরাও হতে পারছে স্বাবলম্বী। এমনই টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের অধীন নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে বিনামূল্যে বিউটিশিয়ানের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দুই প্রশিক্ষক দল বেঁধে প্রশিক্ষণার্থী নারীদের সাঁজিয়ে দিচ্ছেন শেখানোর জন্য। প্রশিক্ষণার্থীরা মনোযোগ দিয়ে দেখছেন রূপচর্চার কাজ। প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া কেউ পড়াশুনা করছেন কেউ বা গৃহিনী।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুন শুরু হয়ে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের অধীন নারীদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে জাইকার সহযোগিতায় বিনামূল্যে বিউটিশিয়ানের প্রশিক্ষণ শুরু হয়। এই বিউটিশিয়ান প্রশিক্ষণে ২জন প্রশিক্ষক ২০ নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষনার্থীদের মাঝে সনদপত্র ও সম্মানীভাতা প্রদান করা হয়।
এদিকে আদিবাসী নারীরা এই শিল্পে জড়িত থাকলেও দিন দিন বিউটিশিয়ানে যুক্ত হচ্ছে বাঙ্গালী নারীরা। সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ নিয়ে নারীরা অনেকেই কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি স্বাবলম্বী হচ্ছে। ভূঞাপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয় থেকে ৬ মাস আগে বিউটিশিয়ানের প্রশিক্ষণ নেন নুসরাত জাহান। বর্তমানে সে অন্যদের বিউটিশিয়ানের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এছাড়া তার সাথে যেসব নারী প্রশিক্ষণ নিয়েছিল তাদের কেউ কেউ হোম পার্লার বা পার্লারের দোকানে কাজ করছেন।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া নারীরা জানান, প্রশিক্ষণটি একজন নারীর জন্য খুবই দরকার। কর্মক্ষেত্রে না হোক নিজে বা পরিবারের নারীদের রূপচর্চা ও প্রসাধনের বিষয়ে কাজে লাগবে। এছাড়া এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের পায়ে দাড়াতে পারবো। প্রশিক্ষণে অনেক কিছু জানতে এবং শিখতে পেরেছি। তবে প্রশিক্ষণটি মাসব্যাপী হলে ভাল হত আরো অনেক কিছু জানা যেত।
প্রশিক্ষক নুসরাত জাহান বলেন, নিজেও এখান থেকে বিউটিফিকেশনের উপর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম। এখন আমি নিজেই প্রশিক্ষক। আমার মতে অনেকেই এখান থেকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছে। অনেকেই হোম পার্লারের কাজ করছে।

প্রশিক্ষক সাদিকুন নাহার প্রিমা বলেন, বিউটিশিয়ান প্রশিক্ষণে রূপচর্চা সংশ্লিষ্ট উপকরণ সম্পর্কে যেমন ফেসিয়াল, ব্লিচ, ম্যানিকিউর, পেডিকিউর, চুল কাটা, ভ্রু প্লাক, মুখ ম্যাসেস, হেয়ার স্টাইল, বৌ সাজানো ইত্যাদি কাজে দক্ষতার জন্য প্রশিক্ষণ করানো হচ্ছে। তারা এই প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেরাই স্বাবলম্বী হতে পারবে। যেকোন অনুষ্ঠানে তারা সাজানোর কাজ করতে পারবে। তবে প্রশিক্ষণটির মেয়াদ বাড়ানো হলে অনেক কিছু জানতে পারতো তারা।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কনিকা মল্লিক বলেন, জাপানী সংস্থা জাইকার সহায়তায় নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে ১২দিনের বিউটিশিয়ানের প্রশিক্ষণ হয়েছে। এতে প্রশিক্ষণার্থীরা সনদের পাশাপাশি সম্মানী ভাতা পাবে। এছাড়া এই প্রশিক্ষণ গ্রহণে নারীরা তাদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি তারা স্বাবলম্বী হতে পারবে।