
প্রকাশ: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ২০:৬

মেহেরপুর জেলায় গত (৩ ফেব্রুয়ারি) বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয় দমকা হাওয়া আর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। বৃহস্পতিবার থেকে (৬ ফেব্রুয়ারি) রবিবার পর্যন্ত টানা ৩ দিনের প্রতিকূল আবাহাওয়ার কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে ওঠে। মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে কৃষকের ফসল। জেলার মাঠজুড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মৌসুমি ফসল গমের।
টানা ৩ দিনের প্রতিকূল আবহাওয়ায় জেলার কৃষকদের মৌসুমি ফসল গম দমকা হাওয়ার কারণে মাটিতে পড়ে গেছে। মাটিতে পড়ার পর তার উপরে দীর্ঘসময় ধরে বৃষ্টি হওয়ার ফলে গমের সবুজ রঙ এখন লালচে হয়ে যাচ্ছে। নিচু জমিতে বৃষ্টির পানি জমাটবদ্ধ হয়ে গমসহ বিভিন্ন ফসলের শিকড় পচে মারা যাচ্ছে।
আবহাওয়ার প্রতিকূলতায় গম ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ফলে ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন কৃষকেরা। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে থাকা গম আর আগের মতো ফলন হবে না এমনটাই বলছেন কৃষক মহল।
জেলার গাংনী উপজেলার বালিয়াঘাট গ্রামের কৃষক আক্কাস জমাদ্দার ই-নিউজ৭১'কে বলেন, 'আমার ৩ বিঘা গম ছিলো। ঝড়ঝাপটা আর বৃষ্টির পানিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে লাল হয়ে গেছে প্রায় ২ বিঘা জমির গম। স্বাভাবিক অবস্থার মতো ফলন হওয়ার কোন সম্ভাবনা এখন আর নেই।'
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি

গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা গ্রামের কৃষক মহির উদ্দিন ই-নিউজ৭১'কে বলেন, 'আমার ১৫ কাঠা জমির গম ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থায় যদি ১ বিঘা জমিতে ১০ মণ হারে গম হতো তবে এখন ৫ মণ হারে হবে।'
কৃষকের দুর্ভোগ আর ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তার বিষয়ে মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার খাঁ ই-নিউজ৭১'কে বলেন, 'প্রতিকূল আবহাওয়ার ফলে মাঠে সবধরনের ফসল কমবেশি ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তবে গমের ফলন নিয়ে কৃষকেরা যতটা দুশ্চিন্তা করছে ততটা ক্ষতি হয়নি। পরবর্তীতে যদি আবহাওয়ার অবস্থা ভালো থাকে তবে জেলার গম ফসল থেকে উৎপাদনের দিক থেকে ভালো ফলন পাওয়া যাবে। '