
প্রকাশ: ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৫:৪৭

শিমুল যদি হইতাম আমি শিমুলের’ই ডালে শোভা পাইতো রুপ আমার ফাগুনেরও কালে। প্রকৃতিতে ফুটে থাকা শিমুল ফুল নিয়ে এমন কালজয়ী অনেক গান রচিত হয়েছে। শুধু কি গান আর কবিত,া বাংলা সাহিত্যের পাতায়ও স্থান পেয়েছে শিমুলের রক্তরাঙ্গা ফুলের অপরুপ সৌন্দর্য। মাঘের তীব্র শীত পেড়িয়ে আর কয়েক দিন পরেই প্রকৃতিতে ঋতুরাজ বসন্তের আগমন ঘটবে। আর সেই আগমনী বার্তা ছড়াচ্ছে শহর আর গ্রামের পথে প্রান্তরে। যেন উদাসী মনে, আকাশ পানে চেয়ে আছে সদ্য ফোটা শিমুলের দল। রক্তিম মনোলোভা শিমুল ফুলগুলো।
উত্তরের সীমান্তবর্তী শষ্যভান্ডার খ্যাত নওগাঁ জেলার বিভিন্ন রাস্তার পাশে শিমুল ফুলের সৌন্দর্য প্রকৃতি প্রেমীদের নজর কাড়ছে। সেই সাথে পাখপাখালি আর মৌমাছিদের আনাগোনা চোখে পড়ার মত দৃশ্য। আর পথচারীদের মুগ্ধ করছে। কিন্তু কালের পরিক্রমায় ইট-পাথরের রাজত্বে অপরূপ সাজে সজ্জিত শিমুল গাছ ও ফুল প্রায় বিলুপ্তির পথে। বসন্ত আসার আগেই গাছে গাছে সীমিত আকারে শিমুর ফুল ফুটতে শুরু করেছে।
মাঘের শেষ হতে এখনো কয়েকদিন বাঁকি, আর এর মধ্যে প্রকৃতিতে বইতে শুরু করেছে বসন্তের হাওয়া। ঋতুরাজ বসন্ত তার আগমনী বার্তা নিয়ে প্রকৃতির দরজায় কড়া নাড়ছে। বছর ঘুরে প্রকৃতি তার নানা পরিবর্তন পেরিয়ে আবার সেজেছে নতুন রূপে। বসন্তের আগমনে শীতের রিক্ততা ভুলিয়ে ফাগুনের আগুনে মানুষের মন আর প্রকৃতিতে লেগেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। বসন্তের রঙ্গ ও রূপে নিজেকে সাজাতে প্রকৃতি এখন মেতে উঠেছে। প্রকৃতি ধারণ করছে রূপ লাবণ্যে ভরা মনোহর পরিবেশ। ফাল্গুনের আগুনে শীতের তীব্র রুক্ষতা কেটে পাতা ঝড়া বৃক্ষগুলির মাথায় দেখা দিয়েছে সবুজ পাতা, কুলি ও ফুল। প্রকৃতিতে বসন্তের সাজ -সাজ রব শীতের জীর্ণতা কাটিয়ে ফুলে ফুলে সজ্জিত প্রকৃতি জানান দিচ্ছে বসন্তের আগমনী বার্তা।
নওগাঁর সদর উপজেলার ফতেপুর সড়কের গিয়ে দেখা যায় ছোট যমুনা নদীর ফুটওভার ব্রিজ সংলগ্ন রাস্তার ধারের নতুন কুঁড়ি ও ফুলে কয়েকটি শিমুল গাছ রঙিন হয়ে উঠছে। রাস্তার ধারে শিমুল গাছে প্রকৃতির আদরমাখা স্পর্শ যেন জেগে উঠেছে। শীতের রুক্ষতা কাটিয়ে প্রকৃতি ফিরে পেতে চলছে ফুল, ফল ও সবুজের এক অপরূপ সমারোহ, যা আগমনি বার্তা ছড়াচ্ছে বসন্তের। শিমুলের প্রস্ফুটিত হাসিতে শিমুল বনে যেন লেগেছে লেলিহান লাল রঙ্গের আগুনের ছোয়া। নানা প্রজাতির পাখিরা তার মিষ্টি কুহুতানে মাতাল করতে আসছে ঋতুরাজ বসন্ত সবুজ-শ্যামল বাংলায়।

প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী ঋতু বদলায় তার রূপ, রং আর সৌন্দর্য নিয়ে। আগের প্রকৃতি আর বর্তমান প্রকৃতির মধ্যে অনেক পার্থক্য। প্রকৃতি নিয়ে বয়োজ্যেষ্ঠদের মুখ থেকে শোনা যায় এক ঋতুর আবহাওয়া আর এক ঋতুর ১০ দিন আগেই বিস্তার লাভ করে। তাই তো মাঘ মাস শেষ হতে না হতেই প্রকৃতিতে বইতে শরু করেছে ফাল্গুনের হাওয়া। সেই হাওয়ায় শিমুল গাছে ফুটতে শুরু করেছে ফুল। বসন্তের বার্তা নিয়ে শিমুল গাছের কলি খাওয়ায় মেতে উঠেছে পাখির দল। সেই সাথে আম, লিচু, জাম ও বেল গাছে গুলিতে মুকুলে ভরপুর।
সদর উপজেলার বিজিবি ক্যাম্প,ফতেপুর, হাপানিয়া - মহাদেবপুর সড়কের দুই ধারের শিমুল গাছগুলি নতুন কুঁড়ি ও লাল ফুলে প্রকৃতি যেন অনাবিল আনন্দ ও নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলা ভূমিতে পরিনত করেছে। ইট-কাঠের এই যান্ত্রিক যুগে বসন্তে প্রকৃতি যেন তার সব সৌন্দর্য উজাড় করে দিবে।
নওগাঁ সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফজিলাতুন নেছা মিলি বলেন, 'বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ষড় ঋতুর বাংলাদেশে ঋতুর চারিত্রিক পরিবর্তন হচ্ছে। আর এর প্রভাব পড়ছে পরিবেশ ও প্রকৃতিতে। বসন্ত ঋতু আসার আগে শিমুল ফুল ফোঁটার পেছনেও আবহাওয়ার পরিবর্তণের প্রভাব পড়েছে। ফুল দেখলে সবার মন অব্যক্ত এক ভালো লাগায় ভরে যায়। ফুল পছন্দ করে না এমন একটি মানুষও বোধ হয় খুঁজে পাওয়া দুষ্কর ব্যাপার। দৃষ্টিনন্দন ফুলের মধ্যে শিমুলের আবেদন সৌন্দযর্ প্রেমীদের কাছে খুবই বেশি।