
প্রকাশ: ২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৭:৩১

রাজধানীর মহাখালীর একটি হাসপাতাল থেকে গাইবান্ধা যাওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্স ও মাইক্রোবাসের চালকের মধ্যে দ্বন্দ্বে সাভারের আশুলিয়ার বাইপাইলে পথেই আফসানা আক্তার (৯) নামের এক স্কুল ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।বুধবার (০২ ফেব্রুয়ারি) সকালে গ্রেফতারের বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সামিউল ইসলাম।
এরআগে, মঙ্গলবার (০১ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টার দিকে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর মৃত্যু হয় আফসানার৷ পরে নিহতের বাবা আলম মিয়া ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে। রাতেই দুইজনকে আটক করা হয়।নিহত আফসানা আক্তার গাইবান্ধা জেলা থানার বদ্ধ ধান গড়া গ্রামের আলমের মেয়ে। সে তৃতীয় শ্রেনীতে পড়াশোনা করতো।
গ্রেফতাররা হলেন- টাঙ্গাইল জেলার ভুয়াপুর থানার দোপাকান্দী গ্রামের আব্দুর রহমান খানের ছেলে হানিফ খান (৪০)। তিনি আশুলিয়ার বাইপাইলে বসবাস করেন ও একটি রেন্ট এ কারের প্রাইভেটকারের চালক। আরেকজন টাঙ্গাইলের ভুয়াপুরের খুপিবাড়ি গ্রামের মৃত সুরুজ মন্ডলের ছেলে মো. ইমরান (২৫)। তিনি পেশায় গাড়ি চালক। এছাড়া এ মামলার প্রধান আসামি হাইয়েস মাইক্রোবাসের চালক নজরুল ইসলাম। তিনি পলাতক রয়েছেন।

শিশুটির পিতা আলম মিয়া বলেন, আমার মেয়ে ক্যন্সারে আক্রান্ত ছিলো৷ চার মাস হয়েছে ক্যান্সার ধরা পরেছে। আমি আজ সকালে মহাখালী ক্যন্সার হাসপাতালে আমার মেয়ে কে নিলে ডাক্তারা বলেন রোগীর অবস্থা বেশী ভালো না। তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। আত্নীয় স্বজন সাবাইকে দেখান৷ তখন আমি হাসপাতালে দেরি না করে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পথে। রাস্তায় আশুলিয়ার দিকে একটি মাইক্রোবাসের সাথে আমাদের অ্যাম্বুলেন্সের ঝামেলা হয়৷ পরে বাইপাইলে অ্যাম্বুলেন্স পৌছালে চাবি নিয়ে যায় মাইক্রোবাসের চালক৷ আমি কয়েকবার চাবি চাইলেও তারা দেয় না। এর মধ্যে আমার মেয়ে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যায়।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সামিউল ইসলাম বলেন, নিহতের মরদেহ গতকালই ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গতকাল দিবাগত রাতে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চালক ইমরান হোসেন ও হানিফ খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের আজ আদালতে পাঠানো হবে। ঘটনায় জড়িত সকলের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।