
প্রকাশ: ৭ ডিসেম্বর ২০২১, ১:৪৫

আগামী দিন ৮-ডিসেম্বর মাদারীপুরর কালকিনি শত্রু মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের আজ ৭ ডিসেম্বর রাতে কালকিনি উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন স্থানে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ গ্রহন করে পাকবাহিনীকে পরাস্ত করেন। পরে ৮ ডিসেম্বর কালকিনি উপজেলা শত্রু মুক্ত হয়। মুক্তিযোদ্ধারা জানান,যুদ্ধের সময় মানুষ ধরে এনে মজিদবাড়ি ভূরঘাটার লোহার(লাল ব্রীজ) ব্রিজের উপড় গুলি করে,রাইফেলের বেয়ানেট ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে খালের পানিতে ফেলে ভাসিয়ে দিতো এবং ব্রীজের গোড়ায় মাটি চাপা দিয়ে দিতো পাকবাহিনী। ব্রীজের নিচের পানি মানুষের লাল রক্তে রঞ্জিত হওয়ায় পরে এই ব্রীজের নাম হয় লালপোল বা লালব্রিজ যা এখনও মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত।
এ নির্মম হত্যা কান্ডের সাথে কালকিনি ও আশপাশের রাজাকার-আলবদররা জড়িত ছিল। এ সমস্ত রাজাকার আলবদরদের বিচার শুরু করে পাপমোচন করার দাবি মুক্তিযোদ্ধাদের। বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন-অর রমিদ মাতুব্বর,মজিদ মোল্লা,কালাচান সরদার, বলেন, মুক্তিযুদ্ধের এত বছর পাড় হলেও এখনও এ স্থানে শহীদদের স্মৃতির স্বরনে নির্মান হয়নি কোন স্মৃতি সৌধ বা স্তম্ভ। বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হানিফ হাওলাদার এ স্থানে অতিদ্রুত শহীদদের স্মৃতির স্বরনে এ খানে স্মৃতি স্তম্ভ নির্মানের দাবি জানান।

কালকিনি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.মালেক হাওলাদার বলেন, কালকিনি শত্রু মুক্ত হলেও পাশের জেলা বরিশাল এর গৌরনদীর এলাকায় ১৬ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও আটকে পরা পাকবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ২২ দিন যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধেও অংশ গ্রহন করেন মাদারীপুর ও কালকিনির মুক্তিযোদ্ধারা।কালকিনি উপজেলার সাবেক কমান্ডার জলিল আকন বলেন, কালকিনি শত্রুমুক্ত দিবস উপলক্ষে আমরা আগামি কাল ৮ ডিসেম্বর সকালে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছি।কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপংকর তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, যথাযথ সম্মানের সাথে কালকিনি শত্রুমুক্ত দিবস পালনের জন্য সব রকম উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি