
প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২১, ১৮:৩

রশিতে বাঁধা খেয়া নৌকাটির মাঝি ছিলো না। খালের দু’পাড়ে বাঁধা রশি টেনেই নৌকায় আসা-যাওয়া করতো স্কুল শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন। প্রায়ই রশি টানতে গিয়ে পানিতে পড়েছে অনেক শিক্ষার্থী। ঘটছে মৃত্যুর মত দুর্ঘটনাও। দু’পাড়ের লোকজনের যোগাযোগ ব্যবস্থায় দুর্ভোগ ছিলো চরমে। তাই দুই গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্ভোগ কমাতে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মাদারবুনিয়া ও রসূলবাড়িয়া গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া মাদারবুনিয়া খালে ২৮০ফুট দৈর্ঘ্যের একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, মাদারবুনিয়া খালের দু’ পাড়ে প্রায় ২-৩ হাজার মানুষের বসবাস। এদের মধ্যে স্কুল পড়–য়া শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় দুইশত। এলাকাবাসীর উদ্যোগে দীর্ঘদিন যাবত মাদারবুনিয়া খালে পারাপারের জন্য নৌকা দেওয়া হয়। ওই নৌকায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছিল ওইসব শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন। আর এই খেয়া নৌকা পাড় হয়ে রসূলবাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমলিবাড়িয়া সিনিয়র মাদ্রাসা, আমলিবাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব নেতা এমএইচ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাহেরচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাঙ্গাবালী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হালিমা খাতুন মহিলা কলেজ, রাঙ্গাবালী সরকারী কলেজ এবং উপজেলা পরিষদে আসতো লোকজন। তাই মাদারবুনিয়া ও রসূলবাড়িয়া গ্রামের অসংখ্য লোকজন প্রতিদিন মাদারবুনিয়া খালের রশিতে বাঁধা নৌকায় পারাপার হত।
তাই স্থানীয়দের এই দুর্ভোগ লাঘোব করতে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. জহির আহম্মেদ এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সরেজমিনে দেখাগেছে, ৩লাখ ২৯ হাজার ৯৫০ টাকা ব্যয়ে ১৬জন শ্রমিক ২০ দিন যাবত মাদারবুনিয়া খালে প্রায় ২৮০ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করেছেন। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের উদ্যোগেই এ সেতু নির্মাণ হয় । গতকাল শেষ হয়েছে নির্মাণ কাজ। ইতোমধ্যে সেতু দিয়ে লোকজন পারাপারও হতে শুরু হয়েছে।
নির্মাণ কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকা মো. টিপু সলতান নামের এক যুবক বলেন, রসূলবাড়িয়া ও মাদারবুনিয়ার যে খালটি রয়েছে এটিতে দীর্ঘ ৪০-৫০ বছর একটি খেয়া নৌকা ছিল। এখানে অন্য কোন যাতায়েত ব্যবস্থা ছিলো না। অনেক সময় খেয়া নৌকাটিও ডুবে থাকতো। মাঝে মধ্যে নৌকা মেরামতের জন্য তোলা হত। তখন কলাগাছের ভেলায় পারাপার হতো লোকজন। অনেক জনপ্রতিনিধিরা এযাবত আশ্বাস দিলেও কোন সূরাহ হয়নি। তবে বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. জহির আহম্মেদের সাথে আলাপ করলে তিনি আশ্বাস না দিয়েই পনের দিনের মধ্যে নিজ উদ্যোগে একটি কাঠের সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি

রসুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. রুহুল আমিন বলেন, খালের ওপারে মাদারবুনিয়া এলাকা থেকে রসূল বাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্তত ১৫০ জন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসেন। রশি টেনে খেয়া নৌকায় পাড় হতে গিয়ে অধিকাংশ সময় মারাত্মক দূর্ঘটনা ঘটেছে। এমনকি কয়েক বছর আগে দুই শিশু পানিতে ডুবে মারা গেছে। একারণে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে অভিভাবকরা শঙ্কায় ছিলো। ইতোমধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয় একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করে দিয়েছেন। ফলে শিক্ষার্থীদের আসা-যাওয়া অনেকটা ঝুঁকি কমে গেছে।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. জহির আহম্মেদ বলেন, মাদারবুনিয়া খালে দীর্ঘদিন যাবত ওখানকার লোকজন একটি রশিতে বাঁধা খেয়া নৌকা পেড়িয়ে ঝূঁকি নিয়ে পারাপার হয়ে আসছে। ওখানকার স্থানীয় লোকজনের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করতে আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অর্থ প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার ৯৫০ টাকা যোগান দিয়েছি। এবং একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করেছি। ওখানে যাতে একটি স্থায়ী সেতুর নির্মাণ হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে যোগাযোগ করছি। যাতে দ্রুত গ্রামবাসির দুর্ভোগ লাগোব হয়।এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মো. মিজানুল কবির বলেন, আমরা ইতোমধ্যে জায়গা পরিদর্শণ করে আয়রণ ব্রীজ প্রকল্পে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।