
প্রকাশ: ৯ নভেম্বর ২০২১, ২২:৩২

মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কুষ্টিয়ায় প্রথমবারের মতো একসঙ্গে জন্ম নেওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে একে একে পাঁচটিই মারা গেল। মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেঁচে থাকা সবশেষ কন্যা শিশুটি মারা গেছে।
কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে গত মঙ্গলবার (০২ নভেম্বর) সকালে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন সাদিয়া খাতুন নামে এক গৃহবধূ। ওজন কম হওয়ায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে একে একে সেই পাঁচ শিশুরই মৃত্যু হয়েছে। এর আগে একমাত্র ছেলে শিশুসহ চারজন মারা যায়। সবশেষ শিশুটি মৃত্যুর পর চরম শোকাহত হয়ে পড়েছে শিশুটির বাবা-মাসহ পুরো পরিবার।
প্রথমবারের মতো পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন প্রসূতি সাদিয়া খাতুন (২৪)। গর্ভধারণের পাঁচ মাসের মাথায় জন্ম হওয়ায় শিশুদের ওজন কম হয়েছিল। প্রথম থেকে মা সুস্থ থাকলেও শিশুগুলো ঝুঁকিতে ছিল।বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবদুল মোমেন জানান, নবজাতকরা প্রথম থেকেই ঝুঁকিতে ছিল। ওজন কম হওয়ার কারণে এক ছেলে ও চার মেয়ে নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। আমরা তাদের সুস্থ করে তোলার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলাম।
শিশুদের বাবা সোহেল রানা বলেন, একসঙ্গে জন্ম নেওয়া আমার এক ছেলে ও চার কন্যা সন্তানের সবাই একে একে মারা গেছে। খুবই কষ্ট লাগছে। তাদের মা সুস্থ আছে। শিশুর ওজন কম হওয়ায় ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেছিলেন চিকিৎসক। কিন্তু অর্থের অভাবে ঢাকায় নিতে পারিনি।

শিশুদের দাদা সামাদ আলী বলেন, আমরা দরিদ্র মানুষ। আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না। ছেলের চা দোকানের আয়ে সংসার চলে। টাকার অভাবে শিশুদের ঢাকায় নিয়ে যেতে পারিনি। যদিও চিকিৎসকরা প্রথম থেকেই ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। টাকার অভাব না থাকলে হয়তো শিশুদের ঢাকায় নিয়ে যেতে পারতাম। সবগুলো শিশু বেঁচে থাকলে এবং একসঙ্গে বেড়ে উঠলে ভালো লাগত।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু বিশেষজ্ঞ মো. শাহীন আক্তার সুমন বলেন, তাদের ওজন কম হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগে অথবা শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।কিন্তু তারা নিয়ে যাননি। বাচ্চাদের সুস্থ করে তোলার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলাম। বাচ্চাগুলোর ওজন ৫০০-৬০০ গ্রাম ছিল। এমন কম ওজনের বাচ্চা বাঁচানো কঠিন।